যাত্রা শিল্পে সুদিন ফিরছে, সবংয়ে দর্শকদের ভিড়, আশাবাদী শিল্পীরা
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সুদিন ফিরছে যাত্রা শিল্পের। সবংয়ে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম দেখে আশাবাদী শিল্পীরা। কার্যত হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকশিল্পে যাত্রার প্রতি  আগ্রহ ও উৎসাহ  নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। মানছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাদার ও অপেশাদার (অ্যামেচার) দুই ধরনের শিল্পীরাই। শিল্পীদের কাছে যাত্রার মরশুম বলতে, ‘ষষ্ঠী থেকে জষ্ঠী’। এই মরশুম শুরু হয় দুর্গাষষ্ঠী থেকে। আর চলে প্রায় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। চিতপুরের বিখ্যাত যাত্রাদলের শিল্পী ও কলাকুশলীরা বলেন, এবার ষষ্ঠী থেকে ভাল বরাত পাচ্ছেন। শালবনীর গোবরুর বাসিন্দা প্রবীণ ‘অ্যামেচার’ যাত্রাশিল্পী চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ষষ্ঠী থেকে দ্বাদশী, আমার নির্দেশনায় সাতটা যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালীপুজোর পর থেকে আবার শুরু হবে।

Advertisement

দুর্গাপুজোর আনন্দ শেষ হলেও উৎসবের রেশ শেষ হতে চায় না গ্রামবাংলায়। উৎসবের আবহকে দীর্ঘায়িত করতে মাঠে-ময়দানে শুরু হয়েছে বাংলার প্রাচীন লোকসংস্কৃতি যাত্রাপালার আসর। শনিবার, সন্ধ্যায় সবংয়ের বলপাই গ্রামে যাত্রা দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিল। বলপাইয়ের মিশ্র বাড়ি এবং এলাকাবাসীদের যৌথ উদ্যোগে এই যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। চিতপুরের একটি বিখ্যাত অপেরা মঞ্চস্থ করে তাঁদের সামাজিক পালা ‘চক্রব্যূহে একা অভিমন্যু’। দর্শকে ঠাসা প্যান্ডেলে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবীণরাও যাত্রা দেখে উচ্ছ্বসিত। নবীন প্রজন্মের এক দর্শক বলেন, মুগ্ধ হয়ে গেলাম যাত্রা দেখে। মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির নতুন ব্যাখ্যা রয়েছে এই সামাজিক পালায়। পালার লেখক, পরিচালক ও মুখ্য অভিনেতা অনিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নতুন প্রজন্মকে শুধু দর্শক হিসাবে নয়, শিল্পী হিসাবেও যাত্রায় যুক্ত করতে হবে। তাদের হাতে এখন বিনোদনের নানা মাধ্যম। যাত্রার শিকড়কে ধরে রেখেই বিষয় ও উপস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে হবে। নতুন পালাকার ও নতুন মেধাও দরকার।
একই মত যাত্রাপালার প্রযোজক দেবব্রত মাইতিরও। তিনি বলেন, যে শিল্প সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে, তার নিজেরও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়া প্রয়োজন। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন যাত্রাশিল্পীরা। তাঁর দাবি, কোভিড-পরবর্তী সময়ে যাত্রা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। একই সুর ‘অ্যামেচার’ শিল্পী চিত্তরঞ্জনবাবুও। তিনি বলেন, প্রাচীন যাত্রাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পেশাদার ও অপেশাদার দুই ধরনের শিল্পীদের কথাই ভাবুক রাজ্য সরকার। 
বলপাইয়ের বাসিন্দা মধুসূদন মিশ্র, দেবাশিস মিশ্র, রবি জানা, শম্ভু গুছাইত বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে পারলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও স্বমহিমায় ফিরতে পারে। সুদিন ফেরানোর দায়িত্ব শিল্পী, উদ্যোক্তা, দর্শক থেকে সরকারের।