নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, সঞ্চয়ের টাকা সেখানেই বিনিয়োগ করবেন, যেখানে রিটার্ন বেশি। মেয়াদ শেষে কত টাকা পাওয়া যাবে, তার দিইে নজর থাকে প্রায় সকলেরই। বিনিয়োগের মূল মন্ত্র কি তাই? মিউচুয়াল ফান্ড মানেই কি ঝুঁকি? অনিশ্চয়তা? সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প বা ফিক্সড ডিপোজিটই কি সবচেয়ে গ্রহণযোগ লগ্নি? এমনই বহু প্রশ্নের জবাব দিতে শনিবার সল্টলেকে আয়োজন করা হয়েছিল এক অনুষ্ঠানের, যার শিরোনাম ‘গল্পে আড্ডায় ইনভেস্টেমেন্টের ম্যাজিক মন্ত্র’। ‘আদিত্য বিড়লা সান লাইফ মিউচুয়াল ফান্ড’ এবং ‘বর্তমান’ একযোগে আয়োজন করে ওই অনুষ্ঠানের। জমজমাট অনুষ্ঠান শুধু যে মনোগ্রাহী ছিল, তা নয়। কানায় কানায় পূর্ণ সভাকক্ষে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও সতঃস্ফূর্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।
আদিত্য বিড়লা সানলাইফ এএমসি লিমিটেডের ইনভেস্টমেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জোনাল ম্যানেজার মহম্মদ আমির সুলেইমান দর্শকদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সচেতনতার খুঁটিনাটি তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের শুরুতেই। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে শুধুমাত্র বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। ২৮ লক্ষ মানুষ সেই ফাঁদে পড়েছেন। তাই বিনিয়োগের আগে সবদিক চিন্তা করা উচিত বলে পরামর্শ দেন তিনি। দর্শকদের তিনি বোঝান, বিনিয়োগ করার আগে চারটি প্রধান দিক বিবেচনা করা উচিত। সবার আগে দেখা উচিত সুরক্ষা। তারপর আসে লিকুইডিটি, যেখানে দ্রুত জমানো টাকা হাতের নাগালে চলে আসতে পারে। এরপর লগ্নিকারীদের চিন্তাভাবনা করা উচিত লগ্নির রিটার্ন নিয়ে। চতুর্থ ধাপে দেখে নিতে হবে কর সংক্রান্ত সুবিধা কী কী পাওয়া যায়। তাঁর পরামর্শ, আগামী দিনে কোন কোন প্রয়োজনে টাকার দরকার হতে পারে, সেই ব্যাপারে নজর দিয়েই লগ্নি করা উচিত। অর্থাৎ, অবসর, সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বাড়ি তৈরি, ভ্রমণ বা বিয়ের জন্য যেমন আলাদা আলাদা অঙ্কের টাকা প্রয়োজন, তেমনই কোনওটা দীর্ঘমেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী হতে পারে। যাঁরা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপিতে বিনিয়োগ করেন, তাঁদের প্রতিটি আলাদা লক্ষ্যের জন্য আলাদা এসআইপির পরামর্শ দেন তিনি।
আদিত্য বিড়লা সানলাইফ এএমসি লিমিটেডের ইনভেস্টমেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান সিদ্ধার্থ দামানিও স্পষ্ট করে জানান, লক্ষ্য আগে ঠিক করে, তবেই বিনিয়োগ করা যুক্তিপূর্ণ। তাঁর অভিজ্ঞতা, লগ্নির ক্ষেত্রে অনেকেই আগে মিউচুয়াল ফান্ডের ‘প্রোডাক্ট’ পছন্দ করে কিনে ফেলেন। পরে লগ্নির লক্ষ্য স্থির করেন। বাস্তবে ঠিক উল্টোটাই হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, অনেকেই ভাবেন, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির অর্থ, প্রয়োজনে চট করে টাকা পাওয়া যাবে না। অথচ লিকুইড ফান্ড নামে এমন এক প্রকল্প আছে, যা অতি দ্রুত গ্রাহককে নগদ টাকা দিতে পারে। সাধারণত ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের চেয়ে এর রিটার্নও বেশি হয়। বিনিয়োগে বিশেষজ্ঞ শৈবাল বিশ্বাস স্পষ্ট করে বলেন, মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সঙ্কট, যা আজীবন লগ্নিকারীকে বিপাকে ফেলে। ফলে যাঁরা ফিক্সড ডিপোজিটকেই পাখির চোখ করেন, তাঁদের মাথায় রাখা উচিত, সুদের হার ভবিষ্যতে কমে যেতে পারে, আবার মূল্যবৃদ্ধি তাঁর জীবনযাপনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। তাঁর কথায়, শৃঙ্খলাপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এসআইপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ অশোক রায় মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি, এসটিপি, এসডব্লুপি সংক্রান্ত ধারণা দেন। লগ্নিতে সময়, ঝুঁকি ও রিটার্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই সম্পর্কে মতামত দেন তিনি।