


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বিজেপির প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের অডিও ভাইরাল (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) প্রসঙ্গে মঙ্গলবার লালগড়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এফআইআর ও গলার অডিও স্যাম্পেল টেস্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের দিন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন প্রতি অসম্মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।
জেলা শহর থেকে গ্ৰামীণ এলাকা—বিজেপি প্রার্থীর অডিও এখন সবার মোবাইলে ঘুরছে। তা নিয়ে তা নিয়ে জঙ্গলমহলে চর্চা এখন তুঙ্গে। নানা এলাকার মানুষ ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন। লক্ষ্মীকান্তের ট্র্যাক রেকর্ডও খুব একটা ভালো নয় বলে অভিযোগ উঠছে। ঊনিশের লোকসভা ভোটের সময় নগদ এক কোটি টাকা সহ পুলিশের হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন লক্ষ্মীকান্ত। এবারও বিষয়টি সামনে এসে যাওয়ায় প্রচারে বেরিয়ে বেশ বিব্রতবোধ করতে হচ্ছিল পদ্মপ্রার্থীকে। তবে, তিনি ‘দলের টাকা’ বলে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ্মীকান্তের এই অডিওটি। সোমবার শহর তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে এ নিয়ে জেলা নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করে। অডিও ইস্যুতে তদন্তের দাবি তোলা হয়। এদিন লালগড়ের সজীব সংঘের মাঠে দাঁড়িয়ে অভিষেক তদন্তের দাবিতে আরও শান দেন। তিনি বলেন, ‘এফআইআর করার পাশাপাশি গলার স্বরের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’
রবিবার এই সবুজ সংঘের মাঠেই তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে সভা করার কথা ছিল সস্ত্রীক হেমন্ত সরেনের। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সফরসূচির বাইরে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। তার জেরে হেমন্তের সভা বাতিল হয়ে যায়। আশাহত হয়ে বাড়ির পথ ধরেন আদিবাসী সমাজের লোকজন। তা নিয়েও এদিন সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার কারণে হেমন্ত সরেন ও তাঁর স্ত্রীকে একঘন্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়।’ একই সঙ্গে তাঁর সংয়োজন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেলেন, সেই দোকান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা মাটি মানুষের সরকার তৈরি করেছে। সমাজ মাধ্যমে শুনলাম, দোকানদার ভাইয়ের বাড়ি বিহারের গয়াতে। বিহারে যদি ডবল ইঞ্জিনের সরকার থাকে তাহলে সেখানকার যুবক-যুবতীদের ঝাড়গ্রাম ,আসনসোল, শিলিগুড়ি ও কলকাতায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে কেন? ২০১১ সালের আগে সকাল দশটার পর এখানকার মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারতেন না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এসে নির্ভয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, মা মাটি মানুষের কাছে এর থেকে বড় সাফল্য হতে পারে না।’
এদিন, ভাইরাল অডিয়ো নিয়েও বিজেপি সহ প্রার্থী লক্ষ্মীকান্তকে তেড়ে আক্রমণ করেন অভিষেক। ভিড়ঠাসা জনসভায় তিনি বলেন, ‘যাঁরা নিজেদের লালসা, ইচ্ছেপূরণ করতে মহিলাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন, বস্তুর মতো ব্যবহার করেন ঝাড়গ্রামের মাটি তাঁদের ক্ষমা করবে না। মার্জিত কোনো শিক্ষিত লোক ভারতীয় জনতা পার্টি করেন না। চোর চিটিংবাজ, দু’নম্বরি, ভুঁইফোড়, পাতাখোর, খুনি, ধর্ষক, বেইমান, মদ্য-মাতালরাই বিজেপি করে।’ এদিকে,বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউ এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউপি থেকে আইপ্যাক এসেছে। এআই জেনারেটেড ও ভাষা রূপান্তর করে ওরা অডিওটি তৈরি করেছে। গতকাল যাঁরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করব। সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাব। ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম থানায় জিডি করেছি। আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করা হচ্ছে।’ ঝাড়গ্রাম জেলা সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, ‘অডিওর তদন্ত হওয়া দরকার। জেলার নারী সমাজ এই ধরনের ঘটনা মেনে নেবে না।’