


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালির আমানতকারীদের জন্য ফের সুখবর! এবার আদালতের নির্দেশে মোট ৪৫০ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে প্রতারিতদের। ওড়িশার বিশেষ পিএমএলএ আদালত রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত করা মোট ৩৩২.৭৬ কোটি টাকা (সুদ-সহ বর্তমানে যা মোট ৪৫০ কোটি টাকা) রোজভ্যালির অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটির (এডিসি) অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে। এবার ইডির তরফে এই মোটা অঙ্কের অর্থ জমা পড়বে কমিটির অ্যাকাউন্টে। তারপর কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটির তত্ত্বাবধানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমানতকারীদের ওই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। যাঁদের আমানতের অঙ্ক কম, তাঁরা টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
রোজভ্যালিতে প্রতারিত আমানতকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। এবং তাঁদের লগ্নির অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি। রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে ভিন রাজ্যেরও এই চিটফান্ড সংস্থা জাল ছড়িয়েছিল। ফলে এটি রাজ্যের অন্যতম বড় চিটফান্ড কাণ্ড বলেই পরিচিত। প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে প্রাক্তন বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বে একটি এক সদস্যের কমিশন গড়ে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি ‘অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি’(এডিসি) তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই একটি ওয়েবসাইট (www.rosevalleyadc.com) মারফত টাকা ফেরতের আবেদন গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এডিসির অন্যতম সদস্য আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, যাঁদের আমানতের অঙ্ক ২০০ টাকা থেকে ১০ হাজারের মধ্যে ছিল, এমন ৩২ হাজার ৩১৯ জন প্রতারিত আমানতকারীর টাকা এরই মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মোট ২২ কোটি টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে কমিটি। শুভাশিসবাবু জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে ৩৩২.৭৬ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ইডি সিজ করেছিল। এতদিনে সুদ-সহ তা ৪৫০ কোটির বেশি হওয়া উচিত বলেই মনে করছে এডিসি। তবে এডিসির তরফে টাকা ফেরতের জন্য যে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছিল, তাতে টাকা ফেরত চেয়ে ৩১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। আপাতত সেগুলি যাচাইয়ের কাজ করছে এক সদস্যের কমিটি।
তবে শুধু এই ৪৫০ কোটিই নয়। জানা গিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে ইতিমধ্যেই ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ৮০০ কোটি নগদ অর্থ জমা রয়েছে ইডির কাছে। পাশাপাশি বর্তমানে রোজভ্যালির যে কোম্পানিগুলি চালু রয়েছে, তার লভ্যাংশের অর্থও প্রতিনিয়ত জমা পড়ছে ইডির কাছে। রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত করা মোট ২২টি হোটেল বিক্রি সম্পর্কে ইডির অবস্থান জানতে চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে রোজভ্যালির বাকি সম্পত্তি বিক্রি নিয়েও ইডিকে তাদের অবস্থান জানাতে বলেছে আদালত। রোজভ্যালির ওই ২২টি হোটেলে এখনও ব্যবসা চলছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটির তত্ত্বাবধানে যে হোটেলগুলি চলছে, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইডিকে জবাব দিতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ ইডির কাছে ওই তথ্য তলব করেছিল।