Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কেন্দ্র-রাজ্য সুসম্পর্ক বাংলায় লগ্নির পরিবেশ আনবে, আশায় শিল্পমহল

বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় খুশির বার্তা আগেই দিয়েছিল শিল্পমহল। এবার তাদের আশা, শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এবার স্বচ্ছ প্রশাসন পাবে বাংলা

কেন্দ্র-রাজ্য সুসম্পর্ক বাংলায় লগ্নির  পরিবেশ আনবে, আশায় শিল্পমহল
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় খুশির বার্তা আগেই দিয়েছিল শিল্পমহল। এবার তাদের আশা, শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এবার স্বচ্ছ প্রশাসন পাবে বাংলা। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক বা শিল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক উন্নয়নও এরাজ্যের শিল্প পরিস্থিতিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের সদ্ভাবই মূল রসায়ন হিসেবে কাজ করবে, আশা তাদের।

Advertisement

ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিসিয়ার কথায়, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুস্থ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হবে, এই আশা আমাদের দীর্ঘদিনের। অবশেষে তা পূরণ হতে চলেছে। এর হাত ধরেই নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প এরাজ্যে সুষ্ঠুভাবে চালু হবে বলে আশা করছি আমরা। তা শিল্পের পালে হাওয়া দেবে। একই সঙ্গে শিল্পমহলের আশা পূরণ করার ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে রাখেন, সেই বিষয়ে নিশ্চিত প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বছরের পর বছর কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে তিনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এমনকি বিজেপির হয়ে প্রচারে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলার নানা প্রান্তে। সব জায়গাতেই যে সেসব খুব অনায়াসে হয়েছে, তা নয়। নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এর থেকেই প্রামণিত হয়, তিনি শুধু সাহসী নন, প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধতার পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। সেই কারণেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি তাঁরই অর্জিত এবং তা ঐতিহাসিকও বটে। আমরা তাই প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, শিল্পের বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি প্রভৃতি বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। 
মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট প্রীতি এ সুরেখাও বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই বণিকসভাটির আশা, রাজ্যে শিল্পের হৃতগৌরব ফেরাতে সবরকমের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন তিনি। বিজেপি সরকার শিল্পের প্রসারে লগ্নিবান্ধব নীতি আনবে। একমাত্র সুষ্ঠু পলিসি তৈরিই লগ্নিকারীদের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে পারে বলে মনে করছে বণিকসভাটি। ছোটো শিল্পের পাশাপাশি বড়ো শিল্পের প্রতিও যাতে তাদের নজর থাকে, সেই দাবি করছে তারা। ক্যাপিটাল সাবসিডি, সুদের হার মকুব, বিদ্যুৎ মাশুল কমানো, স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ খরচ শিল্প সংস্থাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো আর্থিক উৎসাহমূলক পদক্ষেপ যাতে নেওয়া হয়, তারও দাবি রয়েছে মার্চেন্টস চেম্বারের তরফে। 
এরাজ্যে বিদ্যুৎ মাশুল চড়া। তাই বাংলার পণ্য প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ে। সেই দিকটির সুরাহা চেয়েছে তারা। শিল্পের জমি এখনো এরাজ্যে বড়ো ইস্যু। শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নীতিগত কারণেই বছরের পর বছর বন্ধ ছিল এরাজ্যে। তা আবারও চালু করার দাবি জানিয়েছে এই বণিকসভা। তাদের বক্তব্য, জমি সংক্রান্ত যে আইনগুলি বাংলায় বলবৎ আছে, সেগুলিও লগ্নির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। নতুন সরকার সেই দিকগুলিতে নজর দেবে এবং সমস্যার সমাধান করবে, আশাবাদী তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ