Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পোস্তার ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় প্রৌঢ়ের ব্যাগের চেন খুলে সোনার গয়না চুরি, ৫ সেকেন্ডের মধ্যে গায়েব ১৭ লক্ষ টাকার অলংকার

চিৎপুরে প্রৌঢ়ের ব্যাগ থেকে ৫ সেকেন্ডে ১৭ লক্ষ টাকার গয়না চুরি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

পোস্তার ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় প্রৌঢ়ের ব্যাগের চেন খুলে সোনার গয়না চুরি, ৫ সেকেন্ডের মধ্যে গায়েব ১৭ লক্ষ টাকার অলংকার
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিৎপুরে মারোয়রি রিলিফ সোসাইটির সামনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ হাঁটছেন প্রৌঢ়। হাতে ব্যাগ। তাতে সোনার গয়না ও হিরে। তিন ব্যক্তি যেন মাটি ফুঁড়ে উদয় হল। এ কথা সে কথার পর সোনার গয়নার কথা শুরু করল তারা। চিৎপুর রাস্তা তখন জমজমাট। প্রৌঢ় সন্দিহান হলেও ভয় পাননি। তিনজনকে পাত্তা না দিয়ে গয়না জমা দিতে সোজা হাঁটা লাগান পান্না জুয়েলার্সের দিকে। পৌঁছনোর পর ব্যাগ খুলতে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। ব্যাগের চেন খোলা। সোনার বাক্স নেই। দেখে মাথায় হাত দিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। প্রায় কালাজাদুর মতো হাত সাফাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। বিষয়টির অভিনবত্ব হকচকিয়ে দিয়েছে অভিযোগকারীকে তো বটেই তদন্তকারীদেরও। 

Advertisement

প্রৌঢ়ের নাম সুজিত দাস (৫০)। তিনি ডোমজুড়ে থাকেন। সেখানে বাপ্পা কর নামে এক ব্যক্তির কারখানায় কাজ করেন। বাপ্পা সোনার গয়না তৈরি করেন। সে অলঙ্কার কেনে কলকাতার একাধিক সোনার দোকান। সুজিতবাবু গয়না ডোমজুড় থেকে নিয়ে কলকাতার দোকানগুলিতে পৌঁছে দেওয়ার কাজই মূলত করেন। শুক্রবারও সে কাজেই এসেছিলেন।পোস্তা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সুজিতবাবুর ব্যাগে ছিল সোনার নেকলেস, ব্রেসলেট ও কাফলিংক। একটি চামড়ার ব্যাগে রাখা ছিল সেগুলি। ১৮ ক্যারেটের প্রায় ১৫০ গ্রাম ওজনের অলঙ্কার। খোলা বাজারে মূল্য কমকরে ১৭ লক্ষ টাকা।
সুজিতবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, ডোমজুড় থেকে এসে প্রথমে শরৎ বোস রোডে একটি সোনার দোকানে গিয়েছিলেন। দোকানটির নাম প্রদীপ পোদ্দার জুয়েলার্স। সেখান থেকে কিছু হিরে নেন। বাক্সে ভরে চামড়ার ব্যাগের ভিতর রাখেন। সোনা ও হিরে পাশাপাশিই রাখা ছিল। এরপর চিৎপুর আসবেন বলে মেট্রো ধরে এম জি রোড স্টেশনে নামেন। নেমে ব্যাগ খুলে দেখে নেন গয়না ও রত্নের বাক্স ঠিকঠাক আছে কি না। তারপর মেট্রো স্টেশন থেকে রবীন্দ্র সরণি হয়ে পান্না জুয়েলার্সের দিকে হাঁটা লাগান। 
এরপরই চমকে দেওয়া ঘটনাটি শুরু হয় মারোয়ারি রিলিফ সোসাইটির কাছে। ৩ জন অনুসরণকারী হঠাৎ সুজিতের পাশে চলে আসে। একটু অন্তরঙ্গ হয়ে সোনার গয়না কত পরিমাণ ও আর কী আছে খোঁজখবর নিতে শুরু করে। তাদের ভাবগতিক ভালো ঠেকেনি। কথা না বলে সোজা হাঁটা দেন সুজিত। পান্না জুয়েলার্সের সামনে পৌঁছনোর পর ব্যাগ খোলা দেখে প্রায় জ্ঞান হারিয়েই ফেলেছিলেন। তৎক্ষণাৎ ছোটেন পোস্তা থানায়। পুলিশ অভিযোগ শুনে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শুরুর পর কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না পুলিশ। সবদিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।
একাধিক জায়গায় খটকা তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের মনে। প্রথমত, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সুজিতকে অনুসরণ করছেন বোঝা সত্ত্বেও কেন আরও সচেতন হলেন না অভিযোগকারী? দ্বিতীয়ত, কারা তাঁকে অনুসরণ করলেন? তৃতীয়ত, অনুসরণকারীরা জানলেন কীভাবে ব্যাগের ভিতর সোনা আছে? তাহলে কি তাদের কাছে আগে থেকেই এই তথ্য ছিল? সে তথ্য তাদের কে দিল? সুজিতবাবুর বয়ান বারবার যাচাই করা চলছে। খটকা আরও একটি বিষয়ে, ব্যাগের ভিতর থেকে একটি বাক্স শুধু কেন নিল দুষ্কৃতীরা, হিরেও বহুমূল্য। সে বাক্সটি না নেওয়ার কারণ কী?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ