Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিপুল রিটার্নের টোপ স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থার! প্রতারিতদের টাকা ফেরাচ্ছে ডিইও

কলকাতার নামী স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থায় আমানত করে প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে চলেছে ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্সসেস (ডিইও)।

বিপুল রিটার্নের টোপ স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থার! প্রতারিতদের টাকা ফেরাচ্ছে ডিইও
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতার নামী স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থায় আমানত করে প্রতারিতদের  টাকা ফেরাতে চলেছে  ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্সসেস (ডিইও)। পূজোর আগেই তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে হাতে চেক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ডিইও তৈরি হওয়ার পর এই প্রথম প্রতারিতরা টাকা ফেরত পেতে চলেছেন। ওই স্বর্ণ বিপণিতে টাকা জমালে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন  দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেবি, রিজার্ভ ব্যাংক সহ বিভিন্ন নিয়ামক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই তারা বাজার থেকে টাকা তুলছিল বলে ডিইও তদন্তে উঠে এসেছে।

Advertisement

ডিইও সূত্রে খবর,২০১৫-১৬ সালে ওই স্বর্ণ অলঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হয় তাদের কোম্পানিতে এক বা দুবছর টাকা রাখলে, ১০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হবে। কেউ যদি টাকা না নেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীকে সমমূল্যের সোনার গয়না দেওয়া হবে। বিপুল পরিমাণ সুদের টোপ গিলে বহু আমানতকারী টাকা রাখতে শুরু করেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও, এক বছরের স্কিমে টাকা রাখা ব্যক্তিদের আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। এমনকি দুবছরের স্কিমে টাকা রাখা ব্যক্তিরাও তা ফেরত পাননি। বিভিন্নভাবে ঘোরানো হতে থাকে। টাকা পাওয়া যাবে না বুঝে প্রতারিত আমানতকারীরা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অভিযোগ করেন বউবাজার থানায়। পরে তদন্তভার যায় ডিইওর কাছে। তদন্তে নেমে অফিসাররা ওই জুয়েলারি সংস্থা থেকে সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেন। যে সমস্ত স্কিম খোলা হয়েছিল, তার অনুমতি নিয়ামক সংস্থাগুলির কাছে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায়। নিয়ামক সংস্থাগুলি জানিয়ে দেয়, এই ধরনের স্কিম চালানোর জন্য কোনও অনুমতি স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী ওই সংস্থাকে দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাজার থেকে এই টাকা তোলা হয়েছে। এই টাকা ঘুরপথে পাচার হয়ে গিয়েছে।   ওই সংস্থার কাছ থেকে আমানতকারীদের তালিকা নেওয়া হয়। দেখা যায়,  প্রায় এক হাজার আমানতকারী প্রতারিত হয়েছেন। যেখানে এক লক্ষ থেকে দশ লক্ষ পর্যন্ত টাকা রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতারণার অঙ্ক দাঁড়ায় ১০ কোটির বেশি। ওই কোম্পানির বেশ কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি হয়। সেখান থেকে দু’কোটি ৩০ লক্ষ টাকা আসে। এরসঙ্গে কোম্পানির ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এই টাকা এতদিন ডিইওর অ্যাকাউন্টে পড়ে ছিল। সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর তদন্তকারীরা প্রতারিত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন। আদালতের কাছে এই সংক্রান্ত আবেদন জানানো হয়। আদালত তা মঞ্জুর করার পরই  টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রতারিতদের তালিকা তৈরি হয়েছে। আনুপাতিক হারে আমানতকারীদের টাকা ভাগ করে দেওয়া হবে বলে খবর। চলতি সপ্তাহেই তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে চেক বিলির কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ