Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে এনআইএ অভিযানে ধৃত মানব পাচার চক্রের মাথা গোলাম

দুর্গাপুরে এনআইএ অভিযানে মানব পাচার চক্রের মাথা গোলাম জামাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিদেশে পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

দুর্গাপুরে এনআইএ অভিযানে ধৃত মানব পাচার চক্রের মাথা গোলাম
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: গোলাম জামা ওরফে লাকির সাদাসিধে দরিদ্র জীবন যাপন। গ্যারাজে টায়ার মিস্ত্রির কাজ করত। অভাবের সংসার। এমনই জানতেন প্রতিবেশীরা। সেই লাকি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের অন্যতম মাথা! দেশের নানা প্রান্তে কাজ দেওয়ার নাম করে বিদেশে পাচার করত ভারতীয়দের। এমনকী জাল পাসপোর্টও বানিয়ে বহু বাংলাদেশিকে ভারতীয় সাজিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে লাকির খোঁজে দুর্গাপুরে হানা দেয় এনআইএ। দুর্গাপুর থানার পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। ছ’ সদস্যের এনআইএ টিম অভিযুক্তকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেপ্তার করে। দুর্গাপুর এসিজেএম আদালতে তুলে তাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করে। বিচারক সেই আর্জি মঞ্জুর করেছেন।  পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, ‘এনআইএর টিম একটি মামলার তদন্তে দুর্গাপুর এসেছিল। আমাদের পুলিশ সব রকম সহযোগিতা করেছে। মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা বলে জানা গিয়েছে।’

Advertisement

চার বছর আগে ছত্তিশগড়ের মুজফফরনগর থেকে দুর্গাপুরে আসে গোলাম জামা। দুর্গাপুর থানার মেনগেট এলাকার নিউ স্টিল টাউনশিপ এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। অণ্ডালে একটি টায়ারের দোকানে মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করত। পরিবারের লোকজন প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বললেও গোলাম কারও সঙ্গে মেলামেশা করত না। একদিন হঠাৎই গায়েব হয়ে যায় সে। পড়শিরা প্রশ্ন করলে গোলামের স্ত্রী জানায়, টায়ার মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চলছে না। তাই মালয়েশিয়া গিয়েছে কাজ করতে। চার মাস পর ফিরেও আসে গোলাম। সোমবার সকালে আচমকা এনআইএ’র টিম গোলামের ঘিরে ফেলে পুলিশ। সাদা পোশাকের ছ’জন সদস্য বাড়িতে ঢুকে তদন্ত শুরু করেন। দলে একজন মহিলা অফিসারও ছিলেন। তদন্ত চলাকালীন পুরো এলাকা ঘিরে ছিল পুলিশ। টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গোলামকে। তার কথায় বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  জানা গিয়েছে, দেশের বহু মানুষকে বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়কে বিদেশে মোটা মাইনের কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিত গোলাম। পাসপোর্ট বানিয়ে সৌদি আরব, থাইল্যাণ্ড, দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিয়েছে সে। বিদেশে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন ভারতীয়রা। একটি দেশের ভারতীয় দূতবাসের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম বিষয়টি জানতে পারে। তারপরই তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করতে গিয়ে এনআ‌ইএ জানতে পেরেছে, বৈধ ভারতীয়রাই নয়, এই চক্র বহু ভুয়ো পাসপোর্টও বানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশীদেরও ভারতীয় পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। লেবার সাপ্লাইয়ের নাম করে পুরো কাজটি বাংলা ও ছত্তিশগড়ে অত্যন্ত গোপনে করত গোলাম। পুরো বিষয়টি নজরদারি করতে সে একবার বিদেশেও যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই এনআইএ গোলামকে গ্রেপ্তার করে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ