Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ, এটাই এডমুন্ড টাইম’

ডার্বি নতুন তারকার জন্ম দেয়। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এডমুন্ড লালরিকনডিকাই ইস্ট বেঙ্গলের স্বপ্নের সওদাগর।

‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ, এটাই এডমুন্ড টাইম’
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ডার্বি নতুন তারকার জন্ম দেয়। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এডমুন্ড লালরিকনডিকাই ইস্ট বেঙ্গলের স্বপ্নের সওদাগর। বড়ো ম্যাচে লাল-হলুদ জার্সিতে বাইচুং ভুটিয়ার পর তিনিই হ্যাটট্রিক করলেন। আপাতত দলকে এক সপ্তাহ বিশ্রাম দিয়েছেন লাল-হলুদ কোচ হাবাস। ছুটিতে যাওয়ার আগে ‘বর্তমান’কে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন ‘মিজো স্নাইপার’ এডমুন্ড।

Advertisement

প্রশ্ন: বাইচুংয়ের পর ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেন। কতটা খুশি?
এডমুন্ড: গায়ে চিমটি কাটতে ইচ্ছা করছে। ঘোর কাটছে না। অবিশ্বাস্য অনুভূতি। বাইচুং ভাই তো কিংবদন্তি! ভারতীয় ফুটবলের আইকন। সেই কৃতিত্ব স্পর্শ করা গর্বের। 
প্রশ্ন: অনভ্যস্ত পজিশনে খেলেও লক্ষ্যভেদ। সাফল্যের রহস্য কী?
এডমুন্ড: উইং-হাফই পছন্দের জায়গা। ম্যাচের আগে কোচ আন্তোনিও হাবাস বলেছিলেন, ‘তোমায় নতুন জায়গায় খেলতে হবে।’ অনুশীলনে ছবির মতো সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন স্যার। ইন্টার কাশীতে খেলার সময় উনিই কোচ ছিলেন। তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ডুরান্ড কাপে সেরার পুরস্কার পেয়ে অভিভূত। (হেসে) রাতে তা নিয়েই ঘুমোতে গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন: তিনটি গোলের মধ্যে সেরা কোনটা?
এডমুন্ড: আলাদাভাবে বেছে নেওয়া কঠিন। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়ে শট নিতে দেরি করিনি। পরপর দু’গোল হজম করে মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে মোহন বাগান। বারবার বিপক্ষ বক্সে মাথা ঠান্ডা রাখার কথা বলেছিলেন কোচ। আমি শুধু সেই নির্দেশ পালন করেছি। তবে এই হ্যাটট্রিকের নেপথ্যে প্রত্যেক সতীর্থের সমান অবদান রয়েছে। 
প্রশ্ন: গোলের পর আপনার সেলিব্রেশন বেশ অদ্ভুত। কবজি দেখিয়ে হাতঘড়ির কথা বোঝাতে চান। এর অর্থ ঠিক কি?
এডমুন্ড: (হেসে) আসলে বোঝাতে চাই, এটাই এডমুন্ড টাইম। ঘড়ি ঠিকঠাকই চলছে। তবে পুরোটাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ।
প্রশ্ন: ইস্ট বেঙ্গলে এর আগেও খেলেছেন। তবে ২০২০ সালে চোটের কারণে ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কামব্যাক কতটা কঠিন ছিল?
এডমুন্ড: অভিশপ্ত অধ্যায় ভুলতে চাই। ফুটবলারের পায়ে বল নেই! সেই যন্ত্রণা কুরে কুরে খেত। ১৮ মাস বাইরে থাকার পর ইন্টার কাশীর জার্সিতে মাঠে ফিরি। কঠিন সময়ে পরিবার ও বোন মানসিক জোর জুগিয়েছে। জানেন, ডার্বির আগে বোন হ্যাটট্রিকের আবদার করেছিল। মনে হচ্ছে, ঈশ্বর মুখ তুলে চাইলেন।
প্রশ্ন: লাল-হলুদ সমর্থকদের কী বার্তা দেবেন?
এডমুন্ড: কলকাতার আবেগই আলাদা। ওই গ্যালারির আওয়াজ যে কোনো ফুটবলারকে তাতিয়ে দেবে। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করি। অনুরাগীদের বলতে চাই, সাফল্য উপভোগ করার পাশাপাশি দলের পাশে থাকুন। কথা দিচ্ছি, আরও সাফল্য এনে দিতে চেষ্টার কসুর থাকবে না। 
প্রশ্ন: ডুরান্ড কাপে সাফল্য পাওয়ার পর প্রত্যাশা তুঙ্গে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কতটা আত্মবিশ্বাসী?
এডমুন্ড: লম্বা মরশুম। এএফসি সহ প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে। চোটমুক্ত থেকে শুধু সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ