Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শীতলপাটিতে পুজো, পান্তাভাত খেয়ে দেবী উমা ফেরেন কৈলাসে

রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন গৃহকর্তা রসিকলাল গুহ। ১৮৮২ সালে দুর্গাপুজোর আগে সেই রাতে তিনি স্বপ্নে শিবকে দেখেন। মহাদেব তাঁকে বলেন, আমি তোর বাড়ির পাশের পদ্মা শাখায় আছি।

শীতলপাটিতে পুজো, পান্তাভাত খেয়ে দেবী উমা ফেরেন কৈলাসে
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী  বারাসত

Advertisement

রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন গৃহকর্তা রসিকলাল গুহ। ১৮৮২ সালে দুর্গাপুজোর আগে সেই রাতে তিনি স্বপ্নে শিবকে দেখেন। মহাদেব তাঁকে বলেন, আমি তোর বাড়ির পাশের পদ্মা শাখায় আছি। আমাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুজো কর। এরপর পদ্মার শাখা নদীতে গিয়ে শিবের মূর্তি উদ্ধার করেন রসিকবাবু। সেই সময় থেকেই বাড়িতে শিবের পুজোর পাশাপাশি হয়ে আসছে দুর্গাপুজোও। আর অতীতের মতো এখনও বারাসতে গুহবাড়ির দুর্গাপুজো সবার নজর কাড়ে। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট হল- অতিথি নন, দেবী এখানে কন্যাসমা। তাই বাড়ির মেয়ের মতোই উমা এখানে শীতলপাটির উপর অধিষ্ঠিত হন। আর পান্তাভাত, মান কচু ও গন্ধরাজ লেবু খেয়ে কৈলাসে পাড়ি দেন।
১৮৮২-র সময়ে গুহ পরিবারের বসবাস ছিল বাংলাদেশের ফরিদপুরে। সেখানেই শুরু হয় গুহবাড়ির উমা আরাধনা। স্বাধীনতার পরে এপার বাংলায় চলে আসেন গুহবাড়ির সদস্যরা। জানা গেল, আগে দেবী দুর্গা সঙ্গে দুই সখী জয়া-বিজয়াকে নিয়ে গুহ পরিবারে বাপের বাড়িতে আসতেন। তাই দেবীর মূর্তির সঙ্গে জয়া ও বিজয়াও থাকতেন। কিন্তু এখন গুহ পরিবার দেবীদুর্গার দুই সখীকে আর মণ্ডপে রাখে না। এই বাড়ির পুজোর অন্যতম ঐতিহ্য হল দেবীর কাঠামো হয় শাল কাঠের। যেখানে অধিষ্ঠিত হন, সেই চৌকিও তৈরি হয় শাল কাঠেই। সেখানে ঘরের মেয়ের মতোই উমাকে বসানো হয় শীতলপাটিতে। পুজোর সব বাসন ও পুজোর ঘট কাঁসার। যে মণ্ডপে দেবী দুর্গার পুজো হয়, তার পাশেই থাকেন মহাদেব। দুর্গা ও শিবের পুজো একসঙ্গেই হয়। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুজোর প্রথম উদ্যোক্তা রসিকলাল গুহ ব্রিটিশ আমলে ওকালতিতে যুক্ত ছিলেন। ফরিদপুরের সেই পুরনো কাঠামোতেই পুজো হয়। বাংলাদেশে যে চৌকির উপরে দেবীকে বসানো হতো, সেই চৌকি আজও অপরিবর্তিত। পরিবারের সদস্য সুমিত গুহ বলেন, ফরিদপুরের কাঠামো, চৌকি, বাসন একইভাবে আজও ব্যবহার করা হয়। ভোগ নিরামিষ। সপ্তমীতে পঞ্চব্যঞ্জনে অন্নভোগ। অষ্টমীতে পোলাও ভোগ, নবমীতে খিচুড়ি ভোগ। আর দশমীর বিসর্জনের আগে মুখের একটু স্বাদ বদল করেন দেবী। আতপ চালের পান্তাভাত ভোগ দেওয়া হয়। চাল সকালে ভিজিয়ে রাখা হয়। দুপুরে পাথরের থালায় সেই ভেজা চালের মধ্যে গন্ধরাজ লেবু মিশিয়ে তৈরি হয় পান্তা। মান কচু সেদ্ধ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। দেবীর সামনে বিশাল জল ভর্তি কলসি রাখা হয়। নাম ‘জলাধার’। সেই জলাধারে দেবীর পায়ের প্রতিচ্ছবি দেখে বিসর্জন হয়। ১৬ জন আদিবাসীর কাঁধে চাপিয়ে সন্ধ্যাতেই দেবীর বিসর্জন হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ