Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেবী কনকদুর্গার আগমন হয় সশস্ত্র পুলিশ প্রহরায়

পুরুলিয়ার জয়পুর রাজবাড়ির দেবী কনকদুর্গার আগমন ঘোড়া, দোলা কিংবা নৌকায় হয় না। তাঁকে নিয়ে আসা হয় ব্যাঙ্কের লকার থেকে।

দেবী কনকদুর্গার আগমন হয় সশস্ত্র পুলিশ প্রহরায়
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকি ধোলে, জয়পুর: পুরুলিয়ার জয়পুর রাজবাড়ির দেবী কনকদুর্গার আগমন ঘোড়া, দোলা কিংবা নৌকায় হয় না। তাঁকে নিয়ে আসা হয় ব্যাঙ্কের লকার থেকে। সামনে-পিছনে থাকে সশস্ত্র পুলিশ পাহারা। কারণ, দেবী মূর্তি যে সোনার! বছরের ৩৬১দিনই দেবী থাকেন ব্যাঙ্কের লকারে। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে নিয়ে আসা হয়। দশমীর দিন পুজো শেষে একইভাবে তিনি ফিরে যান। পুজোর চারদিন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীতে মোড়া থাকে রাজবাড়ি।

Advertisement

কথিত রয়েছে, প্রায় ৩৫০বছর আগে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে কোনও এক মুঘল সম্রাটের সেনাদের তাড়া খেয়ে রাজা জয়সিংহ ও তাঁর সঙ্গীরা জঙ্গলমহলের এই এলাকায় আসেন। পরে এখানেই তাঁরা রাজত্ব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। তখন এলাকাটি কোল, ভিল, মুণ্ডাদের শাসনাধীন ছিল। সেইসময় ওই এলাকার ভূমিজ সর্দার ছিলেন খামার মুণ্ডা। জয়সিংহের সঙ্গে তাঁর তুমুল লড়াই শুরু হয়। যুদ্ধে পরাজিত ভূমিজ সর্দারকে হত্যা করে এলাকার অধিকার নেন জয়সিংহ। তাঁর নামানুসারেই এই জনপদের নাম হয় জয়পুর। রাজপরিবার সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধের সময় জয়সিংহ খামার মুণ্ডার হাতের খাঁড়া ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। খামার মুণ্ডা খাঁড়াটিকে শক্তিরূপে পুজো করতেন। একইভাবে জয়সিংহও সেটিকে পুজো করতে থাকেন। পরে দুর্গা প্রতিমা গড়ে পুজো শুরু হয়। জনশ্রুতি, ১৮৬৬ সাল নাগাদ অষ্টম রাজা কাশীনাথ সিংহের আমলে পুজোর সময় মন্দিরে রাখা অখণ্ড জাগর প্রদীপ উল্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রক্ষা পায়নি দেবীমূর্তিও। পরিবারের অমঙ্গলের কথা ভেবে মন্দিরেই ধর্নায় পড়েন রাজা। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বারাণসীর স্বর্ণকারদের নিয়ে এসে দেবীমূর্তি তৈরি করানো হয়। রাজকোষের ১০৮টি স্বর্ণমুদ্রা এবং মণি-মাণিক্য দিয়ে বারাণসীর কনকদুর্গার আদলে এই দেবীমূর্তি তৈরি করানো হয়। দেবীর চালচিত্র তৈরি হয়েছে দেড় মন রুপো দিয়ে।
১৯৬৯-’৭০ সাল নাগাদ একবার রাজবাড়িতে ডাকাতদল হানা দেয়। সোনাদানা সহ প্রচুর বহুমূল্য গয়না লুট করলেও ডাকাতরা লালশালুতে মোড়া স্বর্ণমূর্তিটির খোঁজ পায়নি। এই ঘটনার পরেই পুলিশ-প্রশাসনের তরফে ওই বিগ্রহ ব্যাঙ্কের লকারে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে প্রতি বছর মূর্তি বের করে এনে পুজো করা হয়। পরিবার সূত্রের খবর, অতীতে এই পুজোয় বলিপ্রথা ছিল। তবে, জয়পুরের ষোলোআনা বলি বন্ধ করার সুপারিশ করে। পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে পশুবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বদলে আখ, চালকুমড়োর সঙ্গে বলি দেওয়া হয় একটি শিঙিমাছকে। তারপরে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ