তামিম ইসলাম, ডোমকল: অলঙ্কার খুলে রেখে নয়, সোনার গয়না সমেতই গ্রামের বিলেই হয় দেবীর বিসর্জন। এমনকি বিসর্জনের পরেও সালঙ্কারাদেবীর গয়না খুলে নেওয়ার নিয়ম নেই! শুধুই কি তাই? চলে কবিগানও। অতীতের এসব রীতি-রেওয়াজ মেনেই আজও শতাব্দীপ্রাচীন কালীপুজো হয় ইসলামপুরের ঋষিপুর কালীমন্দিরে।
কেউ বলেন চারশো, কেউ সাড়ে চারশো কারও আবার মত তার চেয়েও বেশি বয়স এই কালীপুজোর। তবে পুজোর বয়স নিয়ে মতভেদ থাকলেও ঋষিপুরের কালীপুজোর খ্যাতি-ব্যাপ্তি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই ভক্তদের। আর তাতেই জেলার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যের বাইরেও আলাদা ব্যাপ্তি রয়েছে এই কালীপুজোর।
কেউ বলেন ডাকাত কালী, কেউ আবার ডাকেন বিল কালী নামে। ঋষিপুরের শতাব্দীপ্রাচীন পুজোর নাম ও মাহাত্ম্য নিয়েও রয়েছে একাধিক গল্পকথা, নানান লোকবিশ্বাস। জনশ্রুতি, বহুকাল আগে ঋষিপুরের ওই বিলের ধার ছিল জঙ্গলে ঘেরা। সেখানে ছিল কুখ্যাত ডাকাত দলের আস্তানা। ভক্তদের কেউ কেউ বলেন, কালীপুজো করে সেই ডাকাতরা ডাকাতিতে বের হতেন। সেখান থেকেই এই পুজোর শুরু। পরে সময়ের সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ডাকাত দল, কিন্তু ওই বিলের ধারে ভিড় জমতে থাকে সাধকদের। আর ডাকাতদের প্রতিষ্ঠিত সেই মন্দিরেই শুরু হয় পুজো। যা আজও চলে আসছে। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। মন্দিরের সামনে রয়েছে বিশাল বিল। শোনা যায়, সেই বিলে নামার আগে একসময়ে জেলেরা দেবী কালীর সাধনা করতেন, তারপর জলে নামতেন। সেখান থেকেই নাকি এই পুজোর সূচনা! এবছর কার্তিকী অমাবস্যার রাত থেকে পুজো শুরু হবে ঋষিপুরের বিলে। কালীপুজোর রাতে একসঙ্গে একাধিক মূর্তির পুজো হয়। বড়ো প্রতিমার পাশাপাশি সার সার সাজানো থাকে ছোটো, ছোটো কালীপ্রতিমা। প্রতিটি প্রতিমার সামনে থাকেন একজন করে পুরোহিত। সাধারণত কারও মনোবাসনা পূরণ হলে তিনি মানসিকের পুজো দেন। এবছর বড়ো প্রতিমার সঙ্গে একই বেদীতে পুজো হবে ৩২ টি মানসিক কালীপ্রতিমার। অনেকে মনস্কামনা পূরণের পর দেবীকে গয়না দেন। বিসর্জনের সময় প্রতি বছর মূর্তির গায়ে থাকা সেই গয়না খোলা হয় না। গয়না সমেতই দেবীকে বিলের জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। এমনকী পরেও কেউ বিলের জলে নেমে সেই গয়নাগুলি তুলতে যান না। স্থানায় বাসিন্দা ধীরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, কত দিনের পুরানো এই পুজো তা আমার বাপ-দাদুরাই বলে যেতে পারেননি। তাও চারশো বছরের পুরানো তো হবেই। যাই হোক না, এখানে মানত করলে সবার মনস্কাম পূরণ হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক দিলীপ সরকারের কথায়, অনেক ভক্তই তাঁদের মনোস্কামনা পূর্ণ হওয়ার পর এখানে পুজো দেন। মা বড়োই জাগ্রত।



