


সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: সেলিমপুর রোডে ঢুকে কিছুটা এগতেই কানে এল লোহার কাজের শব্দ। ঝালাইয়ের কাজ চলছে। হাতে আর কয়েকটা দিন। জোরকদমে সেলিমপুর পল্লির মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। চারিদিকে বড় বড় দরজা। ঠিক যেন বড় একটা বাড়ি। তবে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ প্রতি মুহূর্তে পাহারা দিয়ে চলেছেন। ঠিক যেন ‘প্রহরী’। ৮৮তম বর্ষে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন শিল্পী ঔমিত্র দাস। প্রতিমা শিল্পী দীপেন মণ্ডল। মা দুর্গা সবসময় আমাদের রক্ষা করেন। সঠিক পথে চালনা করেন। সবাইকে সমান চোখে দেখেন। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বিপর্যয়, ভাঙনের মুহূর্তে তিনিই হয়ে ওঠেন আমাদের অন্যতম আশ্রয়। দেবীর আশীর্বাদে গোটা মানবজাতি সুরক্ষিত। বিশালাকার দরজাগুলি যেন সেই অসীম জগতের প্রতীক। প্রতিটি দরজায় নিরন্তর পাহারা দিয়ে চলেছেন দেবী দুর্গা। মূল ফটকের সামনেই থাকছে দেবীমূর্তি। তিনিই মায়ের মতো গোটা বাড়িটাকে আগলে রেখেছেন। তারপরেই সিঁড়ি। অর্থাৎ দেবী থাকতে কোনও অশুভ শক্তি চৌকাঠ ডিঙিয়ে সেই সিঁড়ির কাছে যেতে পারবে না।
কিছুটা এগলেই বাবুবাগান রোড। ভিতরে ঢুকতেই কানে ভেসে এল ঠুকঠাক শব্দ। কাঠ কাটা হচ্ছে। মাপ মতো কেটে জোড়া হচ্ছে একের পর এক টুকরো। এভাবেই তৈরি হচ্ছে বাংলার একটি প্রাচীন রাজবাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কয়েক শতাব্দীপ্রাচীন। তবে ভিতরে ঢুকলেই মন ভালো হয়ে যাবে। সেখানে শুধুই আলোর রোশনাই। প্রত্যেকে আনন্দে মেতে রয়েছেন। ঠাকুরদালানে নৃত্য পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। নাটমন্দিরে দেবীর আরাধনা চলছে। ৬৪তম বর্ষে বাংলার এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে বাবুবাগান সর্বজনীন। এবারের বিষয় ‘ঐতিহ্যের বঙ্গে, লোকোতরঙ্গে’। সৃজনে ডঃ সুজাতা গুপ্ত। প্রতিমা নির্মাণে প্রদীপ রুদ্র পাল। মূল মণ্ডপে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নজর কাড়বে বাংলার একাধিক নৃত্যশৈলী। ছৌ, গৌড়ীয়নৃত্য, গম্ভীরা, সাঁওতালি নৃত্য থেকে শুরু করে পুতুলনাচ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক শিল্পীরা এসে নৃত্য পরিবেশন করবেন। ভিতরে ঢুকতেই শরতের আমেজ অনুভব করা যাবে। চোখে পড়বে কাশফুল। নৃত্যশিল্পীরা আনন্দে মেতে উঠেছেন। কারণ এক বছর পর দেবী এসেছেন বাড়িতে। উপরে থাকছে বিশালাকার ঝাড়বাতি। শিল্পী জানান, কমপক্ষে বাংলার আট ধরনের নৃত্যশৈলী দেখা যাবে। পরিবেশন করবেন বহু শিল্পী।