ঈশ্বরের অনন্ত নাম ও অনন্ত ভাব। যাঁর যে নামে, যে ভাবে তাঁকে ডাকতে ভাল লাগে সেই নামে ও সেই ভাবে ডাকলে তাঁর ঈশ্বর লাভ হবে। ঈশ্বর যদি সর্বত্র বিদ্যমান তবে আমরা তাঁকে দেখতে পাই না কেন? পানায় ঢাকা পুকুরের সামনে দাঁড়িয়ে তোমরা ব’ল্ছো পুকুরে জল নেই। যদি জল দেখতে চাও তবে পানা সরিয়ে ফেল। মায়ায় ঢাকা চোখ নিয়ে তোমরা ব’ল্ছো ঈশ্বরকে আমরা দেখতে পাই না কেন? যদি ঈশ্বরকে দেখতে চাও তবে মায়াকে সরিয়ে ফেল।
মা আনন্দময়ীকে আমরা দেখতে পাই না কেন?
ইনি বড় লোকের মেয়ে, চিকের আড়ালে থাকেন। ভক্ত সন্তানেরা মায়ারূপ চিকের ভিতর দিয়ে তাঁকে দেখেন। তর্ক করো না। তুমি তোমার মতের উপর যেমন নির্ভর কর, অন্যকেও তার মতের উপর সেই রকম নির্ভর করতে দাও। মিছে তর্কে কাউকেও তার ভুল বোঝাতে পারবে না। ঈশ্বরের কৃপা হলেই সকলে আপন আপন ভুল বুঝতে পারবে।
হাজার বছরের অন্ধকার ঘরে পিদ্দিম জ্বাললে তক্ষুনি আলো হয়। হাজার জন্মের পাপ তাঁর একবার কৃপাদৃষ্টিতে দূর হয়। মলয়-বাতাস বইলে যে গাছে সার আছে সে গাছে চন্দন হয়; কিন্তু অসার পেঁপে, বাঁশ, কলা গাছে কিছুই হয় না। ভগবৎ কৃপা হলে যাদের সার আছে, তারাই মুহূর্ত্তের মধ্যে বদলে পবিত্র হয়ে ঈশ্বর ভাবে পূর্ণ হয় কিন্তু অসার বিষয়াসক্ত মানুষের কিছুই হয় না। ছেলে বললে, মা আমায় ডেকে হাগিও, মা বললে আমায় ডাকতে হবে না, তোমার হাগাই তোমাকে ডাকবে এখন।
অন্নের জন্যে ভাবতে হয়, সাধনা করি কিরূপে? যাঁর জন্যে খাটবে তিনিই খেতে দেবেন। যিনি পাঠিয়েছেন তিনি আগেই খোরাকীর যোগাড় করে রেখেছেন।কোন গৃহস্থের বাড়ীতে একটি তরুণ সাধু ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন। গৃহস্থের যুবতী কন্যা সাধুকে ভিক্ষা দিতে এলো। সাধু যুবতীর বুকের উপর দুটো উন্নত স্তন দেখে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। ঐ কন্যা ভিক্ষা দিতে চাইল, কিন্তু সাধুর সে ভাব নেই, অগত্যা কন্যাটি ফিরে গিয়ে তার মাকে জানাল যে, সাধু ভিক্ষা নিচ্ছে না, এক দৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মা সাধুর কাছে এসে কারণ জিজ্ঞেস করলো সাধু বললেন, “মা তোমার কন্যার বুকের উপর অত বড় দুটো ফোড়া হয়েছে অথচ উনি কি করে স্থির হয়ে আছেন?” সামান্য একটা ফোড়া হলে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে, আর অত বড় দুটো ফোড়া হয়েছে অথচ কেমন করে উনি স্থির হয়ে আছেন? মা বললেন, “ওদুটো ফোড়া নয়, ওদুটোর নাম স্তন, ওর সন্তান হবার সময় হয়ে এসেছে, এজন্য ভগবান আগে থেকে বুকে স্তন করে দিয়েছেন, ঐ স্তনে দুধ হবে এবং সেই দুধ পান করে শিশু জীবনধারণ করবে।” সাধু একথা শুনে বললেন “কি! ওর সন্তান হবে তার জন্যে ভগবান এতো আগে দুধের যোগাড় করেছেন?” সুরেশচন্দ্র দত্তের ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের উপদেশ’ থেকে