Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

ঠাকুর

যুবক ভক্তগণের সঙ্গে মহেন্দ্রনাথ, রামচন্দ্র, দেবেন্দ্রনাথ, গিরিশচন্দ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে যাঁকে ঠাকুর ‘পাঁচ সিকে পাঁচ আনা বিশ্বাস’ বলে নির্দেশ করতেন, সেই গিরিশচন্দ্রের প্রাণে একটা বিশেষ ভাবের উদ্দীপনা জাগল। তাঁর মনে হলো, ঠাকুরের নিজের জন্য কালীপূজার কোন প্রয়োজন নেই।

ঠাকুর
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

যুবক ভক্তগণের সঙ্গে মহেন্দ্রনাথ, রামচন্দ্র, দেবেন্দ্রনাথ, গিরিশচন্দ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে যাঁকে ঠাকুর ‘পাঁচ সিকে পাঁচ আনা বিশ্বাস’ বলে নির্দেশ করতেন, সেই গিরিশচন্দ্রের প্রাণে একটা বিশেষ ভাবের উদ্দীপনা জাগল। তাঁর মনে হলো, ঠাকুরের নিজের জন্য কালীপূজার কোন প্রয়োজন নেই। যদি মনে করা হয় অহেতুকী ভক্তির প্রেরণায় ঠাকুরের কালীপূজা করার ইচ্ছা হয়েছে, তাহলে তিনি এতক্ষণে সে পূজা আরম্ভ করে দিতেন। তা না করে, সমস্ত পূজার আয়োজন প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তিনি নিশ্চুপ হয়ে বসে আছেন কেন? তবে কি তাঁরই জীবন্ত শরীররূপ প্রতিমায় জগদম্বার পূজা করে ভক্তগণ ধন্য হবে বলে এই পূজার আয়োজন? এরূপ ভেবে গিরিশ উৎফুল্ল হয়ে সম্মুখস্থ পুষ্প চন্দন হাতে নিয়ে হঠাৎ ‘জয় মা’ বলে ভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করলেন। তখন শ্রীশ্রীঠাকুরের সমস্ত শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে শিউরে উঠল এবং তিনি তৎক্ষণাৎ গভীর সমাধিমগ্ন হলেন। তাঁর মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় ও দিব্য হাস্যে বিকশিত হলো এবং হস্তদ্বয় বরাভয় মুদ্রা ধারণপূর্বক তাতে জগদম্বার ভাবাবেশের পরিচয় প্রদান করলেন। তখন উপস্থিত সকলেই অনুভব করল শ্রীশ্রীঠাকুরের শরীরাবলম্বনে জ্যোতির্ময়ী দেবীপ্রতিমা সহসা তাদের সম্মুখে আবির্ভূতা হয়েছেন। তখন সকলেই যে যেমন পারে সম্মুখস্থ পুষ্পচন্দন হস্তে ধারণপূর্বক যেমন ইচ্ছা মন্ত্র উচ্চারণপূর্বক ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্মে পূজাপূর্বক ‘জয় মা, জয় মা’ শব্দে শ্যামপুকুরের বাটীটিকে ভরে তুললেন। ঠাকুরের ভাব একটু উপশম হয়ে অর্ধবাহ্য দশায় নামলে, সমস্ত ভোগ দ্রব্য একটু তাঁর মুখে তুলে দিলে তিনিও সামান্য গ্রহণ করে ভক্তদের জন্য প্রসাদ করে দিলেন এবং সমস্ত ভক্তদের ভক্তি ও জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য তাঁদের আশীর্বাদ করলেন। ভক্তরা এই সমস্ত অশ্রুতপূর্ব শ্রীশ্রীঠাকুরের সাক্ষাৎ মা কালীরূপ দর্শন স্পর্শন প্রসাদ ও আশীর্বাদ প্রাপ্তিতে আনন্দ সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে অনেক রাত্রি পর্যন্ত সকলেই প্রাণের উল্লাসে কালীকীর্তন, নাম-জপ, ধ্যান-ধারণাদিতে অতিবাহিত করলেন।

Advertisement

“শ্যামপুকুরে অবস্থানকালে ঠাকুরের ভিতর দিব্য শক্তি ও দেবভাবের পরিচয় ভক্তগণ পূর্বোক্তরূপে কেবলমাত্র বিশেষ বিশেষ পর্বকালেই যে পেয়েছিল তা নয়, কিন্তু সহসা যখন তখন তাতে ঐরূপ ভাবের বিকাশ দেখবার অবসর লাভ করে তাঁর প্রতি তাদের দেবমানব বলে বিশ্বাস দিন দিন ঘনীভূত হয়েছিল।” শ্রীরামকৃষ্ণ রঙের গামলা’র Open Truth খোলাখুলি ভাবে সকলের কাছে Directly হাতে নাতে সাক্ষাতে প্রকাশ করার প্রধান স্থান হচ্ছে এই শ্যামপুকুর ও কাশীপুর উদ্যানবাটী। পাঠক যদি এই ঠাকুরের শরীরে দীপান্বিতা কালীপূজার দিন মা জগদম্বার পূজার ঘটনা নাট্যাভিনয় রূপে দেখতে বা অনুভব করতে চান, তাহলে ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃতে’র ‘শ্যামপুকুর’ অধ্যায়ের ‘জগন্মাতা কালীপূজা’ অধ্যায়টা পড়লে ঠাকুরের ‘রঙের গামলা’র মাহাত্ম্য যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন!
স্বামী সৎপ্রভানন্দের ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও রঙের গামলা’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ