নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রায় ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে গোবরডাঙা হাসপাতাল। ফের তা চালু করতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরও যথেষ্ট তৎপর। এবার হাসপাতাল হস্তান্তরে সম্মতি জানিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরকে চিঠি দিল জেলা পরিষদ। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত জেলা পরিষদকে চিঠি পাঠিয়ে হাসপাতালের সম্পত্তি পুরসভাকে হস্তান্তর করতে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী হস্তান্তরে সম্মতি জানিয়ে মঙ্গলবার রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি দিল জেলা পরিষদ। এর ফলে হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগল।
১৯৫৭ সালে প্রায় ছ’বিঘা জমিতে তৈরি হয়েছিল গোবরডাঙা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। পরে এটি হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়। ২০০১ সালে হাসপাতাল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অধীনে আসে। তবে ২০১৪ সালে কর্মী ও চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। ফের করোনা সংক্রমণের সময় আপৎকালীন চিকিৎসার জন্য ৫০ বেড নিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হয়। একজন চিকিৎসকও নিয়োগ করা হয়েছিল। করোনার পর আউটডোর চালু ছিল। কিন্তু সেই চিকিৎসক অবসর নেওয়ার পর বন্ধ আউটডোর পরিষেবাও। তারপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ফের হাসপাতাল চালুর দাবি প্রবল হতে থাকে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতাল চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। ক’দিন আগেই রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হাসপাতাল চালু করার নির্দেশ দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পুরসভাকে দিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এটি চালু করা হবে। সেই মতো শুরু হয়েছে প্রক্রিয়া। হাসপাতালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্রুত গোবরডাঙা পুরসভাকে হস্তান্তর করতে চিঠি দিয়েছেন সিএমওএইচ। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, কয়েকদিন আগেই রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিদর্শন হয়েছে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক আছে। সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে। এখন আমরা জেলা পরিষদকে চিঠি দিয়েছি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে। এটা না হলে টাকা বরাদ্দ করতে সমস্যা হবে। জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা বলেন, মঙ্গলবার আমরা বৈঠক করেছি। গোবরডাঙা পুরসভাকে সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি দেওয়া হল এদিন। গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর দত্ত বলেন, আমরা সম্পত্তি নিজেদের করতে পারলেই স্বাস্থ্যদপ্তর কাজ শুরু করবে। মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে।