


পুজোর মরশুম আসতে দেরি নেই। আকর্ষণীয় চেহারা গড়তে জিমে যাওয়ার কথা ভাবছেন কি? অনেকে আবার নিয়মিত জিমে যান। কিন্তু শরীরচর্চায় সতর্ক না হলে বিপদের ঝুঁকিও রয়েছে। ঘটতে পারে প্রাণহানিও। জিমে যাওয়ার আগে ও পরে কী কী নিয়ম মানবেন? রইল তারই হদিশ।
পুজো আসতে বাকি আর ৮৪ দিন। পাড়ার জিমগুলোয় ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পুজোর আগেই চাই সিক্স প্যাক নয়তো স্লিমট্রিম চেহারা! সারাবছর জিমে ভর্তির চাহিদা কমবেশি থাকলেও পুজোর মাস তিনেক আগে এই চাহিদা যেন আকাশছোঁয়া। উৎসবের দিনগুলোয় নিজের চেহারা আর একটু সুন্দর করে তোলার হাতছানি তার অন্যতম কারণ। লক্ষ্য যা-ই হোক, বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে তবেই জিমে যাওয়া উচিত।
ওজন বেশি হলে শরীরে হাজারো রোগবালাই হয়। তাই মেদ ঝরাতে জিমে যাওয়ার প্রচলন এই প্রজন্মের কাছে অনেকটাই সহজ উপায়ে রোগা থাকার কৌশল। তবে জিম নির্বাচন থেকে শুরু করে, কাকে কতক্ষণ কী ধরনের এক্সারসাইজ করতে হবে তার একটি নিজস্ব বিজ্ঞান রয়েছে। জিমে ভর্তির আগে ও পরে বেশ কিছু বিষয়ে খেয়ালও রাখতে হয়। নইলে জিম করার সুফল তো মিলবেই না, উল্টে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতীতে বেশ কিছু তরুণ-তরুণী, এমনকী, অভিনয় জগতের ব্যক্তিত্বদেরও ‘জিম ফ্রিক’ হওয়ার পরেও প্রাণ হারাতে দেখেছি আমরা!
ফিটনেস বিশেষজ্ঞ গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘একজন স্কুলশিক্ষক যেমন ছাত্রকে সঠিক বৌদ্ধিক বিকাশের সুযোগ করে দেন, একজন জিম প্রশিক্ষকও গাইড হিসেবে শরীরচর্চার সঠিক পথ দেখান। জিমে ভর্তির আগে ও পরে কী কী জটিলতা হতে পারে, হলে কী করণীয়, সেগুলি যিনি জিমে ভর্তি হচ্ছেন, তাঁর যেমন জানা প্রয়োজন তেমনই জিম প্রশিক্ষকেরও সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। তাই সচেতনভাবে জিম বাছাই করতে হবে।’
জিম নির্বাচনের শর্ত
• জিম প্রশিক্ষকের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং আছে কি না, দেখে নিতে হবে।
• এমন জিমে ভর্তি হবেন না যেখানে ডাক্তারি ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া ভর্তি নেওয়া হয়।
• সহযোগী গাইড রয়েছেন কি আদৌ? তাঁর উপর আস্থা রাখা যায় কি? এসব খোঁজ নিয়ে তবেই ভর্তি হবেন।
• এসি আছে এমন জিমে ভর্তি হবেন। জিম করার সময় দেহের তাপমাত্রা বাড়ে। তাই জিমে এসি থাকা প্রয়োজন।
• জিমের সরঞ্জামগুলো আধুনিক এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কি না, তা যাচাই করে নিন।
• জিমের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক হওয়া আবশ্যিক। পোশাক পরিবর্তন করার পরিচ্ছন্ন জায়গা ও পরিবেশ রয়েছে কি না দেখে নিন।
• জিমে বিশেষজ্ঞ নিউট্রিশিয়ন বা পুষ্টিবিদ আছেন কি না সেই খবর নেওয়া জরুরি।
• ভর্তির আগে দিন কয়েকের ট্রায়াল ক্লাস করার ব্যবস্থা থাকে অনেক জিমে। নির্দিষ্ট একটি ট্রায়াল পিরিয়ড রয়েছে এমন জিম বেছে নিন। এতে জিম ও প্রশিক্ষক উভয় সম্পর্কেই স্বচ্ছ ধারণা থাকবে।
এত কিছু জেনেবুঝে নাহয় জিমে ভর্তি হলেন। কিন্তু ভর্তির আগে ও পরে আরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। নিয়ম মেনে যেমন জিমে যেতে হয়, তেমনই কিছু লক্ষণ দেখলেই জিমে যাওয়া বন্ধ করতে হবে।
কখন জিমে যাওয়া বন্ধ?
১) সুস্থ শরীর হলে জিমে ভর্তি হওয়ার আগে ও প্রতি চার-ছয় মাস অন্তর একটি হার্ট চেক আপ করাতে হবে। জিমের ভারী কোনও এক্সারসাইজ হার্টের উপর চাপ ফেলতে পারে। নিয়মিত চেক আপে থাকলে সেই ভয় এড়ানো যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কার্ডিও এক্সারসাইজ করতে হবে। এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম হয় না। এক একজনের শরীর এক এক ছন্দে চলে। তাই এই নিয়মও ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়।
২) দিনের পর দিনে কম ঘুম হচ্ছে, এমন অবস্থায় ভোরে উঠে জিমে যাবেন না। যেদিন ঘুম কম হবে, সেদিন জিমের শিডিউল বদলে নিন। জিমে এমনিতেই পরিশ্রম বেশি হয়। তাই ক্লান্ত শরীরে জিমে যাওয়া উচিত নয়।
৩) দীর্ঘদিন পরে জিমে গেলে পেশিতে ব্যথা হয়। হঠাৎ একদিন অনেকক্ষণ জিম করলেও পেশিতে টান ধরতে পারে। তাই এমন কোনও সমস্যা হলে জিমের গাইডকে জানান। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪) পেটে ব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি বা কোনও সংক্রমণে ভুগলে ওই ক’দিন জিম এড়িয়ে চলুন। ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে ফ্লুইড বেরিয়ে ডিহাইড্রেশন ঘটে। এই সময় জিম নয়।
৫) শরীরে কোনও ব্যথা বা বেদনার উপসর্গ দেখলে সেদিন জিমে যাবেন না। শ্বাসের সমস্যা, মাইগ্রেন, হার্টবিট বেশি বা রক্তচাপ হঠাৎ অনেকটা বেড়ে যাওয়ার মতো বিপদ হলে সতর্ক হোন। সেদিন জিম বন্ধ রাখতে হবে। শরীর সুস্থ হলে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে ফের জিমে যান।
৬) খালি পেটে জিমে যাবেন না। অন্তত চারটি আমন্ড বা একটি কলা খেয়ে জিমে যান। জিমে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক্সারসাইজ নয়।
৭) হাই ইন্টেন্সিটি এক্সারসাইজ করলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিশেষ ডায়েট চার্ট করে নিন। শেক বা প্রোটিন পাউডার হুজুগে মেতে খেতে শুরু করবেন না। আপনার ক্ষেত্রে ওই শেক বা খাবারটির আদৌ কোনও ক্ষতি করবে কি না তা জেনে নিন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে।
৮) মাস্ক পরে এক্সারসাইজ করবেন না। তোয়ালে, জলের বোতল ব্যক্তিগত রাখুন।
এসব নিয়ম মেনে চললে সুস্থ শরীর বজায় রেখেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত চেহারা। পুজোয় শো স্টপার হওয়া এবার শুধু সময়ের অপেক্ষা!
মনীষা মুখোপাধ্যায়