ভোরে নয়, বেলা বাড়লে মাঠে গিয়ে ফসল কাটুন, সাপের বিপদ থেকে বাঁচতে ঘাটালে বন দপ্তরের পরামর্শ চাষিদের
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমায় সাপের উপদ্রব এবং সাপের কামড়ে আহত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই হলেন কৃষক ও খেতমজুর। পরিস্থিতি এমন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই মরশুমে খুব ভোরে মাঠে কাজ করতে না যাওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন বন দপ্তরের আধিকারিক এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীরা। ঘাটাল মহকুমা সোশ্যাল ফরেস্ট্রির রেঞ্জার রতন সরকার বলেন, সাপের কামড় এড়াতে অন্ধকার থাকতে বা খুব সকালে মাঠে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে বিপদ বাড়তেই পারে।

Advertisement

বর্তমানে মাঠে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করার কাজ চলছে। সেই কারণে চাষিরা ভোরে মাঠে গিয়ে ধান কাটছেন। পাশাপাশি ধানের শীষ মরা পোকা দমনে খুব সকালেই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করার কাজে হাত দিচ্ছেন চাষিরা। এই ভোরে মাঠে যাওয়ার ফলেই চাষিদের জীবনে ঘনিয়ে আসছে মারাত্মক বিপদ। ঘাটাল রেঞ্জের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী মলয় ঘোষের কথায়, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ফোটার আগে মাঠে গেলে সাপের কামড় খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভোরবেলা সাপের কামড়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। প্রাণীবিজ্ঞান অনুযায়ী, সাপ হল শীতল রক্তের প্রাণী বা একটোথার্মিক জীব। মানুষ বা অন্য উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের মতো এরা নিজেদের শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের তাপমাত্রার উপর এদের শারীরিক কাজকর্ম পুরোপুরি নির্ভর করে। বন দপ্তরের ব্যাখ্যায়, বর্তমান আবহাওয়া অনুযায়ী ভোরের দিকে ঠাণ্ডা এবং বেলার দিকটা বেশ গরম থাকে। এই ঠাণ্ডা ও গরমের মিশ্র আবহাওয়ায় সাপের পেশিগুলি ভোরের দিকে আড়ষ্ট হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাপের পেশি সচল রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। ভোরের ঠাণ্ডায় শরীরের উত্তাপ কমে যাওয়ায় সাপেরা দ্রুত চলাফেরা করতে পারে না। সূর্যের আলো গায়ে না পড়া পর্যন্ত সাপ জমির আল থেকে দ্রুত সরতে পারে না। বিশেষ করে মারাত্মক বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ এই সময়ে জমির আল থেকে নড়তে একেবারেই অক্ষম থাকে। ঠিক এই সময়েই চাষিরা মাঠে কাজ করতে গেলে আড়ষ্ট হয়ে থাকা সাপগুলি ভয় পেয়ে আত্মরক্ষার্থে ছোবল মারে। তাই সূর্যের আলো ওঠার পর সাপের শরীর পর্যাপ্ত গরম হলে তবেই ধান কাটা বা কীটনাশক দেওয়ার কাজ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মলয়বাবু বলেন, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় চারদিক থেকে ঘিরে ওষুধ স্প্রে করা একেবারেই উচিত নয়। এতে সাপ পালানোর পথ পায় না। সর্বদা জমির আল থেকে অন্তত পাঁচ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে জমির এক ধার থেকে কীটনাশক দিতে হবে। ধান বাঁধার কাজও সূর্য ওঠার পরেই করা উচিত। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের কড়া নির্দেশ, সাপে কামড়ালে ক্ষতস্থানের আশপাশে কোনোভাবেই দড়ি বা গামছার বাঁধন দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ওঝার কাছে গিয়েও রোগীর মহামূল্যবান সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।