লন্ডন: ব্রিটেনে গণধর্ষণের শিকার শিখ তরুণী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ব্রিটেনের ওল্ডবারি শহরে ওই তরুণীকে দুই শ্বেতাঙ্গ দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। অত্যচারের সময় বর্ণবিদ্বেষেরও শিকার হয়েছেন নির্যাতিতা। অভিযুক্তরা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলে - ‘তোর দেশে ফিরে যা’। এই ভয়াবহ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি। তাদের সন্ধানে শহরজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শিখ সংগঠনগুলির বক্তব্য, ব্রিটেনে ক্রমেই বর্ণবিদ্বেষ বাড়ছে। এধরনের অপরাধ রুখতে সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা।
ওইদিন ওল্ডবারির টেম রোড সংলগ্ন এলাকার এক উদ্যানে তরুণীকে একা পেয়ে নির্যাতন চালায় অভিযুক্তরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ। এক আধিকারিকের কথায়, অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা। এটি শুধু গণধর্ষণ নয়। বর্ণবিদ্বেষ থেকেই এই ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই শ্বেতাঙ্গর মধ্যে একজনের টাক মাথা। গায়ে গাঢ় রঙের সোয়েট শার্ট ও হাতে দস্তানা ছিল। আর অন্যজনের গায়ে ধূসর রঙের পোশাক ছিল। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সেখানকার শিখ সম্প্রদায়। প্রতিবাদে সরব শিখ ফেডারেশন (ইউকে), শিখ ইউথ (ইউকে) সহ একাধিক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, বিগত কয়েকমাসে ব্রিটেনে একাধিক বর্ণবিদ্বেষের ঘটনা সামনে এসেছে। সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে আলাদা বর্ণের মানুষজনকে টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। এনিয়ে লেবার পার্টির এমপি প্রীত কাউর গিল জানিয়েছেন, ‘চরম বর্ণবিদ্বেষের ঘটনা। অপরাধীদের উদ্দেশে একটাই কথা বলতে চাই, নির্যাতিতা এই দেশেরই বাসিন্দা। ওল্ডবারি সহ গোটা ব্রিটেনে এই ধরনের অপরাধের কোনও স্থান নেই। দুষ্কৃতীদের কোনও ক্ষমা নেই। তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।’