নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সারাবছর গঙ্গা থেকে তুলে তাল তাল মাটি বিক্রি করেন তাঁরা। তা বিক্রি করে সংসার চালান। প্রতিমা বিসর্জনের সময় এই মাটি সংগ্রহকারীদের মুখের হাসি চওড়া হয়। হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ঝুপড়ি বাড়ি বানিয়ে থাকেন তাঁরা। মঙ্গলবার সরস্বতীর দৌলতে অতিরিক্ত লক্ষ্মীলাভ হল তাঁদের।
Advertisement
দুপুর থেকে হাওড়ার শিবপুর-চাঁদপাল-রামকৃষ্ণপুর ঘাটে সরস্বতী বিসর্জন দিতে এসেছিলেন বহু মানুষ। স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা, ক্লাব কমিটিগুলি ছাড়াও বাড়ির পুজোর প্রতিমারও বিসর্জন হয়েছে দিনভর। নিরঞ্জনের পর নদী থেকে কাঠামো তোলা, ঘাটের আশপাশ পরিষ্কার করার কাজ করেছে হাওড়া পুরসভা। সেই ভিড়েই মিশে ছিলেন আরতি শর্মা, গীতা শর্মা, রাহুল শর্মা, শান্তি মল্লিকরা। নদী থেকে কাঠামো তুলে ঘাটের একপাশে সরিয়ে রাখার পর মূর্তির ভেঙে যাওয়া অংশের মাটি সংগ্রহ করে রং ধুয়ে মণ্ডের আকারে বানিয়ে আলাদা করে রাখছিলেন কয়েকজন। এই মাটি বিক্রি করবেন কুমোরপাড়ায়। ছোট আকারের মূর্তি ছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে প্রয়োজন পরে পবিত্র গঙ্গা মাটির। সে মাটি বিক্রি করেন রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, ‘এ কাজে ঝক্কি অনেক। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় রোজগার কম।’
মাটি সংগ্রহকারী আরতিদেবী বলেন, ‘মাটির মণ্ডের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রি করে দিনে ৩০০ টাকার মতো রোজগার। এই টাকায় পাঁচজনের সংসার চালাতে হয়।’ ব্যস্ত সময়ে মাটি তুলতে গঙ্গায় নামে পরিবারের খুদে সদস্যরাও। গঙ্গায় জোয়ার এলেও তোয়াক্কা নেই খুদেদের। মাটি সংগ্রহকারীদের বক্তব্য, ‘বড় পুজোর বিসর্জনের সময় খুব ভিড় হয়। সে সময় রোজগার বেশি। তখন বাড়ির বাচ্চারাও চলে আসে।’ ঘাটে বসে একটি সরস্বতীর ভেঙে যাওয়া বীণার অংশ নিয়ে খেলা করছিল একটি শিশু। তাকে দেখে এক যুবক বললেন, ‘ভাঙা ঝুপড়িতে রোজ অভাব। কয়েক মাস পর এই বাচ্চাটাও গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটি তুলতে তুলতে চোস্ত খিলাড়ি হয়ে যাবে বাবু।’ নিজস্ব চিত্র
মাটি সংগ্রহকারী আরতিদেবী বলেন, ‘মাটির মণ্ডের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রি করে দিনে ৩০০ টাকার মতো রোজগার। এই টাকায় পাঁচজনের সংসার চালাতে হয়।’ ব্যস্ত সময়ে মাটি তুলতে গঙ্গায় নামে পরিবারের খুদে সদস্যরাও। গঙ্গায় জোয়ার এলেও তোয়াক্কা নেই খুদেদের। মাটি সংগ্রহকারীদের বক্তব্য, ‘বড় পুজোর বিসর্জনের সময় খুব ভিড় হয়। সে সময় রোজগার বেশি। তখন বাড়ির বাচ্চারাও চলে আসে।’ ঘাটে বসে একটি সরস্বতীর ভেঙে যাওয়া বীণার অংশ নিয়ে খেলা করছিল একটি শিশু। তাকে দেখে এক যুবক বললেন, ‘ভাঙা ঝুপড়িতে রোজ অভাব। কয়েক মাস পর এই বাচ্চাটাও গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটি তুলতে তুলতে চোস্ত খিলাড়ি হয়ে যাবে বাবু।’ নিজস্ব চিত্র



