নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে এই যুক্তির বেড়াজালেই আটকে রয়েছে ভারতের বাজার। ফল? পেট্রল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম। এই একই যুক্তি নিয়ে আরও একবার প্রচারে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ, বিশ্ব বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দাম কমবে না জ্বালানির। দিন কয়েক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছিলেন। এবার নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। রবিবার কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এদেশে তেলের দাম অবশ্যই কমানো হবে। কিন্তু এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানির দরে স্থিতাবস্থা নেই। যতক্ষণ না সেই স্থিতিশীলতা ফিরছে, এদেশেও দাম কমানো সম্ভব নয়। তার কারণ, নিয়মিত যদি আন্তর্জাতিক স্তরে দাম কমে-বাড়ে, দেশীয় বাজারে প্রতিদিন দামের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’ এদিন অশোকবাবু দাবি করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলেছে। কী সেই ব্যবস্থা? জ্বালানির কম ব্যবহার, দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানির উপর গুরুত্ব দেওয়া।
অর্থাৎ, সাধারণ দেশবাসী সেই তিমিরেই। বেশি দামেই তাদের কিনতে হবে জ্বালানি। তাই গত এক মাসে ব্রেন্টের দাম কমলেও কলকাতার গ্রাহকদের ১১৩ টাকা দরেই কিনতে হয়েছে পেট্রল। ব্যারেল পিছু ৭০ ডলারে নেমে গেলেও দামে ফারাক হয়নি। অথচ এর আগেই কিন্তু বিশ্ব বাজারে ব্যারেল পিছু অশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাপিয়ে যাওয়ায় মে মাসে ১০ দিনের মধ্যে সাড়ে ৭ টাকা দাম বেড়েছিল পেট্রলের। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল ডিজেল, অটো এলপিজি ও রান্নার গ্যাস। জুনে অপরিশোধিত জ্বালানির গড় দর নেমে আসে ৮৩.২২ ডলারে। আম জনতার অভিযোগ, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ থেমে আবার শুরু হয়ে গেল, কিন্তু দাম আর কমল না। আর জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দামের জন্য লাফিয়ে বাড়তে থাকল মূল্যবৃদ্ধির হার।
ইতিমধ্যেই ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নীতি নিয়ে লাগাতার সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে মোদি সরকার। অভিযোগ এবং ক্ষোভ, দুটোই বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। মাইলেজ যে কমছে, তা স্বীকার করেছে খোদ সরকারই। একই সঙ্গে ই-২০ পেট্রল যে ইঞ্জিনেরও ক্ষতি করছে, তা সরকার মানতে না চাইলেও বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে পেট্রল পাম্পে। বাইক-গাড়িওয়ালারা দাবি তুলছেন, ইথানল মিশ্রিত তেল নর্মাল পেট্রলের দামে কেন কিনব? ১৬৮ টাকায় যে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে, সেটাই তো নর্মাল পেট্রল। কাজেই ই-২০ পেট্রলের দাম কমানো হোক।
তথ্য বলছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাদকারির পুত্রের সংস্থায় ২০২৪ সালে লাভ হয়েছিল ১৭ কোটি টাকা। ইথানল বিক্রি করে সেই সংস্থা ২০২৫ সালে ৫১০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে অভিযোগ সামনে এনেছে বামেরা। সাধারণ মানুষ বলছেন, বিশ্ব বাজারের দরকে সামনে রেখে সরকার ও তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন নিজেদের মতো মুনাফা লুটছেন। তার খেসারত দিতে হচ্ছে আম জনতাকেই।