নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বামী হলেন প্রেমের পথের ‘কাঁটা!’ সেই কাঁটা সাফ করতে প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন মহিলা। সেই মতো মঙ্গলবার রাতে স্বামীকে ফোন করে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের জন্য খাবার আনতে বলেন রুকসোনা বিবি। এরপর মাঝপথে স্বামী মসিয়ার রহমান মণ্ডলের উপর হামলা চালান প্রেমিক আরিফুল। পুরোটাই পরিকল্পনা মাফিক বলে জেনেছে পুলিস।
মঙ্গলবার রাতে আমডাঙার তারাবেড়িয়াতে খুনের চেষ্টা কাণ্ডে ত্রিকোণ প্রেমের চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে পুলিসের হাতে। রুকসোনা বিবি ও তাঁর প্রেমিক আরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এদিকে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের ধারণা, মসিয়ারকে প্রথমে গুলি করা হয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল। তবে তদন্তের পর মনে হচ্ছে, তাঁকে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে খুনের চেষ্টা করেছিলেন আরিফুল। কারণ, এলাকায় কোনও গুলির খোল উদ্ধার হয়নি। তাছাড়া মসিয়ারের শরীরে বুলেট আটকেও নেই।
হঠাৎ স্বামীকে কেন খুনের ছক রুকসোনার? কারণ ত্রিকোণ প্রেম! জানা গিয়েছে, একটা সময় মসিয়ার ও আরিফুল ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁরা গাড়ির ব্যবসা করেন। দু’জনেরই বাড়ি আমডাঙার তারাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাউতারা গ্রামে। দু’জনই বিবাহিত। তবে, আরিফুলের বাবা ওমর আলি মণ্ডল তারাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান হওয়ার পর থেকে এই ব্যবসা কিছুটা কমিয়ে দেন আরিফুল। জানা গিয়েছে, আরিফুলের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা থাকার সময়ে বন্ধু মসিয়ারের বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে রুকসোনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি দুই পরিবারে জানাজানিও হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও কেউই এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেননি। উল্টে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুকসোনা ও আরিফুলের প্রেম আরও গভীর হয়। দু’জনে একাধিকবার বেড়াতেও যান বিভিন্ন জায়গায়। এক সপ্তাহ বা তারও বেশিদিন ঘুরে আবার যে যাঁর বাড়িতে ফিরে আসতেন।
এই জল গড়ায় আমডাঙা থানা পর্যন্ত। কিন্তু লাভ হয়নি। পরকীয়ার ‘মোহ’ তাঁদের এতটাই গ্রাস করেছিল যে, মসিয়ার হয়ে ওঠেন ‘পথের কাঁটা।’ পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই কাঁটা সাফ করতে সপ্তাহখানেক আগেই আরিফুলকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের ছক কষে রুকসোনা। সেই মতো আগে থেকে পাশেই বাপের বাড়িতে চলে যান তিনি। আর সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে মেয়ের খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে স্বামীকে ফোন করেন। বাপের বাড়িতে স্বামীর আসার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর প্রেমিক আরিফুলকে তা জানান তিনি। এরপর রাউতারার যে রাস্তা দিয়ে মসিয়ারের যাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই অন্ধকার জঙ্গলে আরিফুল অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ মসিয়ার ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আরিফুল তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ডান কানের নীচে ধারালো কিছু দিয়ে কোপ মারেন বলেই অনুমান পুলিসের।
মসিয়ার ও তাঁর পরিজনরা প্রথমে গুলি চলেছে বলে দাবি করেন। কিন্তু পুলিস মনে করছে, ধারালো কিছু দিয়েই আঘাত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রুকসোনা ও আরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বুধবার তাঁদের বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক আরিফুলকে পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত ও রুকসোনার জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এনিয়ে বারাসত পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, গুলি চলেছে বলে মনে হচ্ছে না। আরিফুলকে জেরা করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। তবে ধৃত দু’জন পরিকল্পনা করে এই খুনের ছকের কথা স্বীকার করেছেন।-নিজস্ব চিত্র