নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘মোবাইল ছাড় বই ধর’-স্কুল পড়ুয়াদের এই বার্তা দিয়ে সোমবার থেকে আরামবাগ হাইস্কুলে তিন দিনের বইমেলা শুরু হল। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা চলবে। স্কুলের পড়ুয়ারা ক্লাসের ফাঁকে যেমন বইমেলা আসতে পারবে, তেমনই অন্য স্কুলের পড়ুয়া বা বই প্রেমীরাও বইমেলায় অংশ নিতে পারবে। স্কুল ছুটির পর বাইরের পাঠকদের জন্য বইমেলা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। ইংরেজি, বাংলা ভাষার উপর নানা ধরনের বই মিলছে বইমেলায়।
সারি সারি বেঞ্চের উপরেই সাজানো হয়েছে বইয়ের স্টল। বই বিক্রির দায়িত্ব পালন করছে স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্ররা। সংস্থার তরফে ছাড় দিয়ে বই বিক্রি করা হচ্ছে। এদিন মায়ের সঙ্গে বইমেলা ঘুরে বেশ কয়েকটি বই কিনতে পেরে খুশি পঞ্চম শ্রেণির আর্য দে। ষষ্ঠ শ্রেণির শুদ্ধসত্ব রায় বইমেলা ঘুরে দেখে খুব খুশি। সে জানিয়েছে, পরে পছন্দের বই কিনবে।
স্টলের দায়িত্বে থাকা অবিনাশ দানা, শিবরাম রায়, অনুরাগ অধিকারিরা বলে, ইতিহাস, গোয়েন্দা, সাধারণ জ্ঞান, গল্প, সব ধরনের বইই স্টলে রাখা হয়েছে। ক্রেতা এলে বই সম্পর্কে তাদের বোঝাচ্ছি। এদিন বিক্রিও ভালো হয়েছে।
স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি প্রদীপ সিংহরায় বলেন, আমরা পড়ুয়াদের স্বার্থে সারা বছর উৎসাহমূলক নানা কর্মসূচি নিয়ে থাকি। এবার স্কুলে বইমেলা আয়োজন করা হয়েছে। খুদেদের মোবাইলের আসক্তি কমে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মালে সমাজ আরও উন্নত হবে। এই বইমেলায় অভিভাবকরাও আসছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র রায় বলেন, আরামবাগে বইমেলায় গিয়ে অনেকে বই কেনে। স্কুলে বইমেলা আয়োজনের ফলে পড়ুয়ারা তাদের পছন্দের বই কিনতে পর্যাপ্ত সময় পাবে। বইয়ের প্রতি মোহ তৈরি হলে মোবাইল ব্যবহারের কুপ্রভাব থেকে তারা মুক্তি পাবে। সেই লক্ষ্যেই তিন দিনের বইমেলা আয়োজন করা হয়। তাছাড়া এখন বই কেনার অভ্যাস তৈরি হলে বড় হয়ে তাদের মধ্যে বইমেলা যাওয়ার টানও বাড়বে।
এদিন বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষিকা সহ অভিভাবকরাও হাজির হন। অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়ারাও যাতে এই বইমেলায় অংশ নেয় তার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরামবাগ হাইস্কুল থেকে প্রায় প্রত্যেক বছরই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য পায় ছাত্ররা। এবারও কয়েকজন কৃতী রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান দখল করে।