সংবাদদাতা, বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তাল বারুইপুর। গোটা ঘটনায় চার-পাঁচজন জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে এক অভিযুক্ত। সেই প্রভাস সর্দারকে জেরা করে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোটা প্ল্যানে শামিল ছিল মোট চারজন। ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ই ছিল লক্ষ্য। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। প্রভাস সর্দার নামে ওই ধৃত ব্যক্তি আরও জানিয়েছে, আনন্দ নামে এক যুবক ওই নাবালিকার গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। পরে দেহ পুরুকে ফেলে দেওয়া হয়।
বারুইপুর থানায় জেরার মুখে আনন্দ সহ চারজনের নাম জানিয়েছে ধৃত প্রভাস। সেই সঙ্গে এটাও বলে, মেয়েটিকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে তার বাবার থেকে ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল ওরা। কিন্তু কোনো মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসেনি বলে সাফ জানিয়েছেন নাবালিকার বাবা। এখানেই উঠছে প্রশ্ন। মুক্তিপণ হাতানোই উদ্দেশ্য হলে নাবালিকাকে খুন করা হল কেন? এর উত্তর অবশ্য এখনো মেলেনি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যে চারজন এখনও পলাতক, তারা ধরা পড়লেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
কীভাবে ওই নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে, তারও বিবরণ দিয়েছেন ধৃত যুবক। তার দাবি, ওই নাবালিকার গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে আনন্দ। প্রভাস আরও জানিয়েছে, সে নিজে এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। এমনকি তাকেও খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কারণ, গোটা ঘটনাটি দেখে ফেলেছিল সে। যদিও নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটা অবশ্য বলতে পারেনি প্রভাস। ধৃতের বক্তব্য, ‘আমি সেটা দেখিনি।’
মেয়েকে অপহরণ-মুক্তিপণের কথা শুনে হতবাক নিহত ছাত্রীর বাবা. তিনি বলেন, ‘কেন মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল জানা নেই। আমার ফার্নিচারের দোকান। তেমন কোনোও শত্রু নেই।’ এই ঘটনায় ধৃতের সঙ্গে আর কারা ছিল, সেই নামগুলিও জানিয়েছেন তিনি। সেই অভিযুক্তদের মধে অন্যতম আনন্দ। বাকিরা হল প্রবীর, দিবাকর ও রাজা। সবাই স্থানীয় ছেলে। নাবালিকা বাবা আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রথমে আমরা প্রভাসকে চিহ্নিত করতে পারি। ওকে ধরেই মেয়ের খোঁজ পাই। পুলিশ ওকে ভালো করে জেরা করলে সব বেরিয়ে আসবে।’ এদিন রাতেই নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তারপর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।