


বার্মিংহাম: বাজবলের বারোটা বাজালেন শুভমান গিল। ইংরেজ বোলারদের শাসন করে উপহার দিলেন ২৬৯ রানের ঝলমলে ইনিংস। এজবাস্টনে গড়লেন একের পর কীর্তি। তাঁর ব্যাটে ভর করে রানের পাহাড়ে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ইনিংসে ভারত থামল ৫৮৭ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রবল চাপে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় দিনের শেষে আয়োজক দেশ ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৭৭ রান। দু’টি উইকেট নিয়েছেন আকাশদীপ। ওপেনার ডাকেট ধরা পড়েন গিলের হাতে। পরের বলেই পোপ ক্যাচ দেন রাহুলকে। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্যাক ক্রলিকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের উপর চাপ আরও বাড়ান মহম্মদ সিরাজ। ২৫ রানের মধ্যে তিন পড়ে যাওয়ার পর হ্যারি ব্রুককে নিয়ে শেষ বেলায় লড়াই চালান জো রুট।
সুনীল গাভাসকর, শচীন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি— কালের নিয়মে ভারতীয় ক্রিকেট পেয়েছে একের পর মহান ক্রিকেটারকে, যাঁদের সাফল্যে লেখা হয়েছে কালজয়ী ইতিহাস। নেতৃত্বের ব্যাটন এখন গিলের হাতে। প্রবল চাপ উপেক্ষা করেই ইংল্যান্ড সফরে চেনা ছন্দে পাঞ্জাব পুত্তর। হেডিংলেতে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বুঝিয়েছিলেন, ভুল লোকের হাতে দলের দায়িত্ব দেয়নি বোর্ড। দ্বিতীয় টস্টে গিল আরও পরিণত, দায়িত্বশীল। শট চয়নে দিলেন মুন্সিয়ানার পরিচয়। যাকে বলে ‘ক্যাপ্টেনস নক’। তিনি বুঝেছিলেন, এই পিচে রানের মিনার খাড়া করতে না পারলে ঘটবে আরও এক স্বপ্নের অপমৃত্যু। অনায়াসেই সিরিজে জাঁকিয়ে বসবে ইংল্যান্ড। তাই তাড়াহুড়ো নয়, সুযোগ বুঝে খুঁজে নিয়েছেন বাউন্ডারি। ২৬৯ রানের ইনিংসে মেরেছেন ৩০টি চার ও ৩টি ছক্কা।
কথায় আছে, সকাল দেখেই বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। ৫ উইকেটে ৩১০ নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু করেন গিল ও জাদেজা। অনেক চেষ্টা করেও উইকেট ফেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। হতাশা রীতিমতো ফুটে উঠছিল স্টোকসদের চোখেমুখে। সেটাই তো স্বাভাবিক। ম্যাকালাম-স্টোকসের সময়কালে ইংল্যান্ডকে এত রান হজম করতে হয়নি। সময় যত গড়িয়েছে, তরতরিয়ে এগিয়েছে ভারতের ইনিংস। এজবাস্টনের পিচ দেখে মনে হচ্ছিল ব্যাটিং প্যারাডাইস। দ্রুত আউট হওয়া মানে তো আত্মহত্যারই শামিল। ব্যাট হাতে সফল জাদেজাও। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে তাঁর যুলবন্দিতেই ভারত টপকে যায় চারশোর গণ্ডি। তখনই বোঝা গিয়েছিল, রেকর্ডের ফুলঝুরি ছুটতে চলেছে এজবাস্টনে। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন জাড্ডু (৮৯)। সেই আপসোস অবশ্য ঢাকা পড়ে গিলের ব্যাটে। ৩১১ বলে ভারত অধিনায়ক হাঁকান দ্বিশতরান। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারত তথা এশিয়ার ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম। সুযোগ ছিল ত্রিশতরানেরও। কিন্তু সব সময় চাওয়া-পাওয়ার হিসেবে মেলে না। শেষ পর্যন্ত ৩৮৭ বল খেলে থামল গিলের মহাকাব্যিক ইনিংস। মাঠ ছাড়ার সময় আবেগে ভাসল গ্যালারি। ভরিয়ে দিল করতালিতে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও বাহবা জানাতে ভুললেন না। কেউ কেউ তো পিঠ চাপড়ে দিলেন। আসলে দেওয়াল লিখন স্পষ্ট। বিশ্ব ক্রিকেটে এবার শাসন করবেন শুভমানই। রোহিত, কোহলিরা অতীত। শুরু হয়ে গেল গিল-জামানা।
স্কোরবোর্ড: প্রথম ইনিংসে ভারত (৫ উইকেটে ৩১০ থেকে) গিল ক পোপ বো টং ২৬৯, জাদেজা ক স্মিথ বো টং ৮৯, সুন্দর বো রুট ৪২, আকাশদীপ ক ডাকেট বো বশির ৬, সিরাজ ক স্মিথ বো বশির ৮, প্রসিদ্ধ অপরাজিত ৫, অতিরিক্ত, ২২, মোট ১৫১ ওভারে ৫৮৭। উইকেট পতন: ৬-৪১৪, ৭-৫৫৮, ৫৭৪-৮, ৫৭৪-৯, ৫৮৭-১০। বোলিং: ওকস ২৫-৬-৮১-২, কার্স ২৪-৩-৮৩-১, টং ২৮-২-১১৯-২, স্টোকস ১৯-০-৭৪-১, বশির ৪৫-২-১৬৭-৩, রুট ৫-০-২০-১, ব্রুক ৫-০-৩১-০।
ইংল্যান্ড: ক্রলি ক নায়ার বো সিরাজ ১৯, ডাকেট ক গিল বো আকাশ ০, পোপ ক রাহুল বো আকাশ ০, রুট ব্যাটিং ১৮, ব্রুক ব্যাটিং ৩০, অতিরিক্ত ১০, মোট ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৭। উইকেট পতন: ১৩-১, ১৩-২, ২৫-৩। বোলিং: আকাশ ৭-১-৩৬-২, সিরাজ ৭-২-২১-১, প্রসিদ্ধ ৩-০-১১-০, নীতীশ ১-০-১-০, জাদেজা ২-১-৪-০।