Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গিলের সেঞ্চুরিতে ফাইনালে গুজরাত, ট্র্যাজিক হিরো বৈভব

আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে ২০০ রানের টার্গেট যে স্বস্তির নয় তা ফের একবার প্রমাণিত।

গিলের সেঞ্চুরিতে ফাইনালে গুজরাত, ট্র্যাজিক হিরো বৈভব
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুল্লানপুর: আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে ২০০ রানের টার্গেট যে স্বস্তির নয় তা ফের একবার প্রমাণিত। শুক্রবার রাজস্থান রয়্যালসের করা ২১৪ রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল গুজরাত টাইটান্স (২১৯-৩)। সৌজন্যে  দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। তাঁর শতরানে (১০৪) ভর করেই ১৯তম আইপিএলের ফাইনালে গুজরাত। রবিবার আমেদাবাদে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে তারা।

Advertisement

এদিন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে প্রথম পর্ব বৈভব সূর্যবংশীর হলে দ্বিতীয় পর্বে নায়ক শুভমান। বড়ো টার্গেট তাড়া করতে নেমে সাই সুদর্শনের সঙ্গে জুটিতেই ১৬৭ রান তুলে অর্ধেক যুদ্ধ জিতেনেন গুজরাত অধিনায়ক। শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটে ছিল চার-ছয়ের বন্যা। ৫৩ বলে তাঁর ১০৪ রানের ইনিংস সাজান থাকল ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কা দিয়ে। আর্চারের বলে লেগ বিফোর হলেও দলের জয় নিশ্চিত করেদেন তিনি। ভুললে চলবে না সুদর্শনের কথাও। ৩২ বলে ৫৮ রানের দুরন্ত ইনিংস তাঁর। ছন্দেই ব্যাট করছিলেন। কিন্তু হিট উইকেটে তাল কাটল সুদর্শনের। শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে ৮ বল আগেই তাই টার্গেটে পৌঁছাতে আসুবিধা হয়নি জস বাটলার (৯) ও রাহুল তেওয়াটিয়ার (১৭)। 
ম্যাচ হারলেও কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয় বৈভবের জন্য। বিস্ময় কিশোরের চমক যেন শেষই হচ্ছে না! ২৯ বলে ৯৭ রানের পর ৪৭ বলে ৯৬। সেটাও আইপিএলের প্লে-অফের মতো নক আউট মঞ্চে, মরণ-বাঁচন আবহে। এদিন গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে চাপের মুখে পরিণত ইনিংস বৈভব সূর্যবংশীর। মুল্লানপুরে তার লড়াকু ব্যাটিংয়ের সুবাদেই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৪ তুলল রাজস্থান রয়্যালস। মুল্লানপুরের বাইশ গজ কিন্তু স্ট্রোক খেলার পক্ষে মোটেই আদর্শ ছিল না। থেমে আসছিল বল। তার উপর, অন্যপ্রান্তে যাওয়া আসার পালা। বৈভবের এদিনের ইনিংস সেজন্যই স্পেশাল। কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে দলকে টানার ক্ষমতা যে ১৫ বছর বয়সির রয়েছে, সেটাই তুলে ধরল এই ৯৬। কিন্তু আগের দিনের মতো এদিনও অফস্টাম্পের বাইরের শর্টপিচ ডেলিভারি ঘাতক হয়ে ওঠে। 
পরপর দুটো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সেঞ্চুরি ফেলে আসা হজম করা কঠিন। তবে ৮টা চার ও ৭টা ছক্কায় সাজানো এদিনের ইনিংসটা তুলনায় সোনার চেয়েও দামি। কিন্তু ট্র্যাজিক নায়কের তকমা নিয়েই বিদায় নিতে হল তাকে।
এই নিয়ে চলতি আসরে নব্বইয়ের ঘরে তিনবার আউট হল বৈভব। তাতেও মোট ৭৭৬ রানে পৌঁছে গেল সে। কোটিপতি লিগে হাজার রানও পূর্ণ। আর তা এল মাত্র ৪৪০ বল খেলে। এর আগে দ্রুততম হাজার রান ছিল আন্দ্রে রাসেলের (৫৪৫ বল)। এই আসরে বৈভবের মারা বাউন্ডারির সংখ্যা ১৩০। ২০২২ সালে জস বাটলারের ১২৮ টপকে সেটাও রেকর্ড।
বৈভব ছাড়া রাজস্থানের হয়ে বড়ো রান পান রবীন্দ্র জাদেজা (৩৫ বলে অপরাজিত ৪৫)। কনুইয়ে চোট পেয়ে উঠে যাওয়ার আগে ও পরে, দু’বারই বৈভবের সঙ্গে পঞ্চাশ প্লাস রানের জুটি গড়েন ‘স্যার’ জাড্ডু। বাকিরা দাঁড়াতে পারলেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ