সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: পয়েন্ট তালিকায় যতই তলানিতে থাক, আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে নাইটরা অতুলনীয়। সোমবারের নন্দনকাননে সেটাই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শুভমান গিল। কারা যে কোন যুক্তিতে তাঁকে নাইট সংসারের উপযুক্ত মনে করেননি!
সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: পয়েন্ট তালিকায় যতই তলানিতে থাক, আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে নাইটরা অতুলনীয়। সোমবারের নন্দনকাননে সেটাই আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শুভমান গিল। কারা যে কোন যুক্তিতে তাঁকে নাইট সংসারের উপযুক্ত মনে করেননি!
গত অক্টোবরেও শ্রেয়স আয়ার, মিচেল স্টার্ক, ফিল সল্টকে ছেড়েছিল কলকাতা। পরিবর্তে রিটেইন করা হয়েছিল ‘ট্রিপল আর’ রাসেল, রিঙ্কু, রামনদীপকে। পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত, কেমন ক্রিকেট মস্তিষ্কের হাতে রয়েছে শাহরুখের দল। শ্রেয়সদের মতোই, গিলকে ছেড়ে দেওয়াও নিছক ভুল নয়, অপরাধ! ১৬৩ স্ট্রাইক রেটে, ২৫ বছর বয়সির এদিনের ৯০ রানে সেটাই প্রমাণিত। মন্থর উইকেটে, যেখানে বল পড়ে দ্রুত আসছে না, সেখানে কীভাবে ইনিংস গড়তে হয়, সেটারই মাস্টারক্লাস যেন নিলেন প্রাক্তন নাইট। বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে যেভাবে রানের গতি বজায় রাখলেন গিল, তা জিনিয়াসদেরই মানায়। বেপরোয়া আগ্রাসন নয়, মাখনের মধ্যে ছুরি চালানোর মসৃণতায় উঠল রান। কখন যে নব্বইতে পৌঁছলেন, টেরই পাওয়া গেল না!
মাত্র দশ রানের জন্য সেঞ্চুরি ফস্কে গিল যখন ফিরছেন, পুরো গুজরাত ডাগ-আউট দাঁড়িয়ে। হেলমেট খুলে মাথা নাড়তে নাড়তে ড্রেসিং-রুমের দিকে এগনোর সময়ে জুটল পিঠে চাপড়ানি। ইডেনের গ্যালারিও তখন তুমুল হাততালিতে অভিবাদন জানাচ্ছে। একসময়ের ঘরের ছেলের জন্য আপশোসও পড়ল তখন। হতাশা আরও বাড়ল নাইটদের রান তাড়া যখন ধ্রুপদী আসরের ঠুকঠুকে পরিণত হল। বেঙ্কটেশ আয়ারকে তো মরুভূমিতে পথ হারানো উদভ্রান্তই লাগল। কীভাবে রান করবেন, বুঝতেই পারছেন না। ম্যাচ শেষে মেন্টর ড্রোয়েন ব্র্যাভো স্বীকার করলেন, আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন ব্যাটাররা।
গিলকেও অবশ্য একবার অপ্রস্তুত দেখিয়েছিল। টস হেরে যখন সামলাতে হয়েছিল ড্যানি মরিসনের বাউন্সার, ‘তোমায় তো দারুণ দেখাচ্ছে। সামনে বিয়ে নাকি?’ মুহূর্তে লাজুক হাসি টাইটান্স ক্যাপ্টেনের মুখে। কোনও রকমে বললেন, ‘না, তেমন কিছু নয়।’ গুজরাতের স্পিন অ্যাটাকের সামনেও এমন অস্বস্তি সঙ্গী হল রাহানেদের। রশিদ, সুন্দর, কিশোর— প্রত্যেকেই নিলেন উইকেট। অথচ, নারিন, বরুণ ও মঈন, কলকাতার তিন স্পিনারই উইকেটহীন। বাইশ গজ নিয়ে হাজার চর্চা, হোম অ্যাডভান্টেজ মিলছে না বলে কান্নকাটির শেষ নেই নাইটদের। কিন্তু পারফরম্যান্সের নামে লবডঙ্কা!
রশিদের সামনে রাসেলের অসহায়তাতেই স্পষ্ট, কীভাবে অযোগ্যদের পুষে চলছে কলকাতা। দুশো রানও যদি তাড়া করতে না পারা যায়, তাহলে এই দলটার গঙ্গাপ্রাপ্তি ভবিতব্য। অথচ, গুজরাত যেভাবে ওপেনিং জুটিতে একশোরও বেশি তুলেছিল, মনে হচ্ছিল আরও বড় রানের টার্গেট চাপতে চলেছে মাথায়। কিন্তু ডেথ ওভারে টাইটান্সরা তেমন আগ্রাসন দেখাতেই পারলেন না। অবশ্য এমন ধুঁকতে থাকা নাইটদের হারাতে সেটাই যথেষ্ট হয়ে উঠল। ক্লাবহাউসের আপার টিয়ারে তাই শোনা গেল টিপ্পনী, ‘আরে, কেকেআর যে ইস্ট বেঙ্গলের মতোই খেলছে!’