ম্যাঞ্চেস্টার: ম্যান্ডেটরি ১৫ ওভারের খেলা শুরুর ঠিক আগে করমর্দনের ভঙ্গিতে ডান হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন বেন স্টোকস। বুঝিয়ে দিলেন ইংল্যান্ড আর খেলতে চাইছে না। অতএব ড্রয়ের প্রস্তাব। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর যে তখনও থামতে নারাজ। দু’জনের সামনেই শতরানের হাতছানি। তাই সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান। তাতে যেন গালে সপাটে চড় খেয়ে ফের খেলায় মন দিলেন ইংরেজ অধিনায়ক।
পাঁচ ওভার পরই অবশ্য যবনিকা পড়ল ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে। ততক্ষণে ভারতের দুই ত্রাতার সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। জাড্ডুর কেরিয়ারের পঞ্চম। আর সুন্দরের জীবনের প্রথম টেস্ট শতরান। পঞ্চম উইকেটে দু’জনের অপরাজিত ২০৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে হারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। গিলদের সামনে শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগও টিকে রইল। তাই হাতের নাগালে আসা সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া যেন কোনওভাবেই হজম করতে পারেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর শরীরী ভাষায় সেই হতাশা ফুটে উঠল। এমনকী, ম্যাচ শেষে জাদেজা হাত মেতালে এলে তা প্রত্যাখান করেন স্টোকস। বেশ উত্তেজিত দেখায় তাঁকে। তাঁর এমন আচরণে হল সমালোচনাও।
ম্যাচ ড্র হলেও জাদেজাদের লড়াই গর্বিত করার মতোই। মিলল মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা। আর সিরিজে ২-১ এগিয়ে থাকলেও বেন স্টোকসদের রীতিমতো বিধ্বস্ত লাগল। আসলে হোম টিম যে আগেই জয়ের স্বপ্নজাল বুনে ফেলেছিল! এই আবহে বৃহস্পতিবার শুরু পঞ্চম টেস্ট। সকালে দুই উইকেটে ১৭৪ নিয়ে শুরু করেছিল ভারত। ম্যাচ বাঁচানোর জন্য লোকেশ রাহুল ও শুভমান গিলের দিকেই তাকিয়েছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু সাত ওভারের মধ্যেই ঝটকা। ক্যাপ্টেন স্টোকসই আঘাত হানলেন। ৯০ রানে দাঁড়ি পড়ে রাহুলের ইনিংসে। ভাঙে গিলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৮৮ রানের জুটি।
পাঁচে নামা সুন্দরের সঙ্গে এরপর বড় জুটি গড়েন গিল। সিরিজে ভারত অধিনায়কের চতুর্থ শতরান আসে ২২৮ বলে। ক্যাপ্টেন হিসেবে জীবনের প্রথম টেস্ট সিরিজে এর আগে কেউ তিন অঙ্কের রানে চারবার পৌঁছননি। গিলই প্রথমজন। লাঞ্চের ঠিক আগে তিনিই অবশ্য ফিরলেন মনঃসংযোগ হারিয়ে আউট হন। গিল ফিরতেই ইংল্যান্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখনও ৮৯ রানে পিছিয়ে ভারত। ফলে ইনিংসে হারের আশঙ্কাও প্রবল। আর্চার পরের বলেই ফেরাতে পারতেন জাদেজাকে। কিন্তু প্রথম স্লিপে জো রুট ধরে রাখতে পারেননি ক্যাচ। জাদেজা আর সুযোগ দেননি। সুন্দরকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন দুরন্ত লড়াই। স্টোকসকে পরপর ছক্কা ও চার মেলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সুন্দর। ওই ওভারেই জ্যাক ক্রলির মিসফিল্ডের সুবাদে পঞ্চাশে পৌঁছন জাদেজা। একইসঙ্গে লিড নেয় ভারত। জাড্ডুর সোর্ড সেলিব্রেশন সেজন্যই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই সিরিজের আগের তিনটি টেস্টই পঞ্চম দিনের শেষ সেশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডও ব্যতিক্রম হল না। সেই সঙ্গে জাদেজা-সুন্দরের দাপটে ইংল্যান্ডের জয়ের আশাও উবে গেল। ২০২১ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও হনুমা বিহারির লড়াইকেই মনে করাল এই জুটি। সেই ড্রয়ের পর ব্রিসবেনে এসেছিল স্মরণীয় জয়। ওভালে কি তারই পুনরাবৃত্তি হবে?
স্কোরবোর্ড: ভারত প্রথম ইনিংস ৩৫৮।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৬৬৯।
ভারত দ্বিতীয় ইনিংস (১৭৪-২ এর পর): রাহুল এলবিডব্লু বো স্টোকস ৯০, গিল ক স্মিথ বো আর্চার ১০৩, সুন্দর অপরাজিত ১০১ , জাদেজা অপরাজিত ১০৭, অতিরিক্ত ২৪, মোট (১৪৩ ওভারে) ৪২৫-৪। উইকেট পতন: ৩-১৮৮, ৪-২২২। বোলিং: ওকস ২৩-৪-৬৭-২, আর্চার ২৩-৩-৭৮-১, কার্স ১৭-৩-৪৪-০, ডসন ৪৭-১১-৯৫-০, রুট ১৯-২-৬৮-০, স্টোকস ১১-২-৩৩-১, ব্রুক ৩-০-২৪-০।
ম্যাচ ড্র। সিরিজে ইংল্যান্ড ২-১ এগিয়ে।