Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বার্মিংহাম পৌঁছলেন গিলরা, দেশে ফিরছেন হর্ষিত রানা, বোলারদের উপর আস্থা অটুট গম্ভীরের

ভারতের কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীর গত ৯টা টেস্টের সাতটিতেই হেরেছেন।

বার্মিংহাম পৌঁছলেন গিলরা, দেশে ফিরছেন হর্ষিত রানা, বোলারদের উপর আস্থা অটুট গম্ভীরের
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

লিডস: ভারতের কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীর গত ৯টা টেস্টের সাতটিতেই হেরেছেন। হ্যাঁ, যশপ্রীত বুমরাহ খেলা সত্ত্বেও পাঁচদিনের ফরম্যাটে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। মঙ্গলবারের হেডিংলে সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। সমর্থকদের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে ৩৭০ রানের পুঁজি নিয়েও শুভমান গিলের দলের অসহায় পরাজয়। শেষদিনের পিচে বুমরাহ আটকে যেতেই ধরা পড়ল বোলিং আক্রমণের সীমাবদ্ধতা। এই আবহে পাঁচ টেস্টের সিরিজে আর কত লজ্জা অপেক্ষা করছে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন ক্রিকেটেপ্রেমীরা। 

Advertisement

চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে প্রথম উইকেটে ১৮৮ তুলে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলির দাপটে ঝড়ের বেগে উঠছিল রান। ভারতকে দেখে মনেই হচ্ছিল না কোনও ‘প্ল্যান বি’ রয়েছে। বুমরাহ উইকেট না পেলেই যদি এমন দশা হয়, তাহলে মুশকিল। কারণ, এই সিরিজের বাকি চার টেস্টের দুটোতেই খেলবেন না ‘বুমবুম’। কোচ গৌতম গম্ভীর বলেই দিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে বুমরাহর ওয়ার্কলোড কমানো গুরুত্বপূর্ণ। সামনে প্রচুর ক্রিকেট। আগেই ঠিক আছে যে, ও তিনটি টেস্ট খেলবে। সেই পরিকল্পনায় কোনও বদল ঘটছে না।’ 
পিচ থেকে যদি পেসাররা সাহায্য না পান, বল সুইং না করে, সেক্ষেত্রে উইকেট আসবে কোন মন্ত্রে? বুধবার বার্মিংহামে পৌঁছে যাওয়া গিল-গম্ভীর জুটির সামনে ধাঁধা এটাই। শুধু তো উইকেট নেওয়া নয়, রানও তো থামানো যাচ্ছে না। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, শার্দূল ঠাকুররা ওভারপ্রতি পাঁচ-ছয় করে রান দিচ্ছেন। অফে সাতজন ফিল্ডার রেখেও তাঁরা বল করছেন লেগে। বিন্দুমাত্র শৃঙ্খলা নেই বোলিংয়ে। রবীন্দ্র জাদেজাকে পর্যন্ত রিভার্স সুইপ মেরে বশ করে দেন ডাকেট। দ্বিতীয় টেস্টে কুলদীপ যাদবকে খেলানোর ভাবনা তাই থাকছে।
কোচ গম্ভীর অবশ্য আস্থা রাখছেন বোলিং আক্রমণে, ‘অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের স্কোয়াডে থাকা তিন-চার জন বোলারের তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তবে ওদের যোগ্যতা রয়েছে বলেই ড্রেসিং-রুমে আছে। তাদের ভরসা জোগাতে হবে। যদি প্রত্যেক টেস্টের পরই আমরা বোলার বদলাই তবে বোলিং আক্রমণ গড়ে উঠবে কীভাবে? তাই অধৈর্য হলে চলবে না। আর প্রসিদ্ধের মধ্যে ভালো টেস্ট বোলার হয়ে ওঠার মশলা রয়েছে।’
শুভমানকেও অধিনায়ক হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে সময় দিতে চাইছেন গম্ভীর। তবে সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়ার জন্য অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করতে রাজি নন তিনি। কোচের কথায়, ‘প্রত্যেক পরাজয়ই খারাপ। তা সে তরুণ দল নিয়েই হোক বা অভিজ্ঞদের নিয়ে। এটা ভারতীয় দল। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা। তাই তরুণদের নিয়ে খেলাটা কোনও অজুহাত হতে পারে না।’
ব্যাটিংয়ে লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে গম্ভীরের মূল্যায়ন, ‘এটা হতাশার। ওরা আমাদের চেয়েও বেশি হতাশ। কারণ ক্রিকেটাররা জানে যে, প্রথম ইনিংসে আমাদের সামনে ৫৭০-৫৮০ রান তোলার সুযোগ ছিল। সেক্ষেত্রে আমরা চাপে ফেলতে পারতাম বিপক্ষকে। কিন্তু কখনও কখনও এমন ঘটে যায়। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাও ব্যর্থ হয়। আশা করব, এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেবে ওরা।’
এদিকে, পেসার হর্ষিত রানাকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি অবশ্য সরকারিভাবে টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন না। ব্যাকআপ পেসার হিসেবেই প্রথম টেস্টে দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ