Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘন ঘন ভূমিকম্প অস্বাভাবিক নয়,  সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ঘন ঘন ভূমিকম্প অস্বাভাবিক নয়,  সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে দেশে ও প্রতিবেশী দেশে একাধিক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে হওয়া ভূমিকম্পের কাঁপুনি অনুভূত হয়েছে ভারতেরও কিছু অংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ঘন ঘন এরকম ভূমিকম্প হওয়ার মধ্যে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশের একটা বড় অংশ ভূমিকম্প আশঙ্কার নিরিখে বিপজ্জনক পঞ্চম ও চতুর্থ সিসমিক জোনে রয়েছে।  জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শিখেন্দ্র দে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কোন সিসমিক জোনে ভূমিকম্প পরিস্থিতি প্রতিরোধে নির্মাণের সময় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে তার নির্দিষ্ট গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছে সরকারি সংস্থা ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (বিআইএস) এবং অন্য কয়েকটি সংস্থা। এগুলি মেনে নির্মাণ কাজ করা খুব দরকার। প্রসঙ্গত, কলকাতাসহ রাজ্যের বেশকিছু অংশ ৪ নম্বর সিসমিক জোনের মধ্যে রয়েছে। সবথেকে বিপজ্জনক ৫ নম্বর সিসমিক জোনে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত, আন্দামান, কাশ্মীর। এছাড়া হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও  গুজরাতের একাংশও ৫ নম্বর জোনে পড়েছে।  সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১১ শতাংশ এলাকা ৫ নম্বর সিসমিক জোনে ও ১৮ শতাংশ এলাকা ৪ নম্বর সিসমিক জোনের মধ্যে পড়েছে। 
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভের বহু নীচে দুটি প্লেটের মধ্যে সংঘাতের প্রক্রিয়া যেখানে চলছে সেখান থেকে তীব্র ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ইন্ডিয়ান ও ‌ইউরেশিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘাত চলার জন্য হিমালয় এলাকায় বড় ধরনের প্রবণতা বেশি থাকে। এই কারণে কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ ও সিকিমসহ উত্তর-পূর্ব ভারত এবং নেপালে বড় ধরনের ভূমিকম্প অনেক হয়েছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অংশে ভূগর্ভস্থ প্লেটের মধ্যে সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া অসংখ্যা ‘ফল্ট’ বা চ্যুতি ভূমিকম্পের উৎস। তবে ফল্ট থেকে ভূমিকম্পের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হয়। সম্প্রতি দিল্লি সংলগ্ন এলাকা ও ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দূরে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ফল্টের কারণে ভূকম্পন হয়েছিল। তার তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ এর কিছু বেশি। বুধবার গভীর রাত ও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অসম ও নেপালে ৫ মাত্রার ভূকম্পন হয়েছে। দুটি প্লেটের সংঘাতের কারণে এই এলাকায় ভূমিকম্প হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের উৎসস্থল বা এপিসেন্টারের কয়েকশো কিমি দূর পর্যন্ত তীব্রতা অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি কমবেশি ক্ষতিও হতে পারে। তবে তীব্রতা ছাড়াও ক্ষতি অনেকটা নির্ভর করে এলাকার ভূগর্ভস্থ মাটির চরিত্রের উপরে। পাথুরে শক্তপোক্ত মাটি ভূমিকম্পের তীব্রতা অনেকাংশে প্রতিহত করে। তাই দিল্লির কাছকাছি ৫ মাত্রার অধিক ভূমিকম্পের উৎসস্থল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বেশি ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এই মাত্রার কোনও ভূমিকম্পের উৎসস্থল দক্ষিণবঙ্গের কোথাও হলে কলকাতায় ক্ষতির আশঙ্কা বেশিই থাকবে। কারণ এখানকার ভূগর্ভস্থ মাটিতে বালি-কাদা বেশি বলে ভূমিকম্প  প্রতিহত করার শক্তি কম। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ