সংবাদদাতা, ঘাটাল: বৃষ্টির রাতের সুযোগ নিয়ে গ্রামের পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি। আর তারই প্রতিবাদে পথে নামলেন ঘাটাল থানার মারিচ্যা গ্রামের মহিলা, কিশোর-কিশোরী ও প্রবীণরা। বৃহস্পতিবার ঘাটাল-মাংরুল রাস্তা অবরোধ করে শঙ্খধ্বনি, করতাল ও ঘণ্টা বাজিয়ে বিক্ষোভ দেখান নাগরিকরা। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। অবরোধের জেরে রাস্তায় ব্যাপক যানজট হয়। খবর পেয়ে ঘাটাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে বৃষ্টির সুযোগে মারিচ্যা গ্রামের একাধিক মন্দিরে হানা দেয় দুষ্কৃতী দল। গ্রামের বাসিন্দা স্বপন অধিকারীর কৃষ্ণ মন্দিরের তালা ভেঙে চারটি পিতলের গোপাল, দু’টি পিতলের রাধাকৃষ্ণ, একটি পিতলের লক্ষ্মীনারায়ণ এবং প্রতিমার রুপোর বাঁশি সহ বেশ কিছু বহুমূল্য গয়না লুঠ করে তারা। পাশাপাশি গ্রামের দু’টি সর্বজনীন শীতলা মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটে। একটি মন্দির থেকে শীতলা প্রতিমার সোনার চোখ এবং পুজোর ঝাঁঝ-ঘণ্টা চুরি যায়। অন্য একটি শীতলা মন্দিরে দুষ্কৃতীরা হানা দিলেও বিশেষ কিছু খোয়া যায়নি। এছাড়াও একটি মনসা মন্দির থেকে পিতলের মনসা প্রতিমা চুরি গিয়েছে এবং একটি শিব মন্দিরের তালা ভেঙেও চুরির চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। একসঙ্গে এতগুলি দেবস্থানে চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এই চুরির ঘটনার প্রতিবাদে এদিন ঘাটালের বড়দা চৌকান থেকে খড়ার যাওয়ার রাজ্য সড়কের উপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মহিলারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। রীতিমতো শঙ্খধ্বনি ও ঘণ্টা বাজিয়ে এই অভিনব প্রতিবাদে শামিল হন সবাই। ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণদাস বাঙাল ও টুম্পা বাঙালরা বলেন, গ্রামের এতগুলি মন্দিরে একেবারে পরিকল্পনা করে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে এলাকার মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত লেগেছে। পুলিশের কাছে একটাই দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং চুরি যাওয়া দেবদেবীর মূর্তি ও অলঙ্কার উদ্ধার করতে হবে।-নিজস্ব চিত্র