কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: একসময় যেখানে জল থইথই করছিল, আজ সেখানেই বাঁশ, কাঠ আর নানান সজ্জায় মণ্ডপ সেজে উঠছে। প্রায় দু’মাস ধরে ঘাটাল মহকুমার বহু এলাকা ডুবে ছিল। অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল পুজোর মণ্ডপ তৈরি নিয়ে। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুজো কমিটিগুলি নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে অসাধ্য সাধন করে দিল। আজ মহালয়ার দিনে বোঝাই যাবে না যে, এই সমস্ত মণ্ডপ এলাকায় ১৫ দিন আগেও জলমগ্ন ছিল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত মণ্ডপ এখন সেজে উঠছে। বন্যার সেই হতাশা, উদ্বেগ কাটিয়ে সবাই এখন মেতে উঠেছে উৎসবের আনন্দে। ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামলী সর্দার বলেন, এক টানা এতো দিন বৃষ্টি বেশ কয়েক বছর হয়নি। তাই বিগত দু’মাসে শিলাবতী, কংসাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্ফীতিতে ছ’বার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুজো কমিটিগুলি হতাশায় পুজো করার আশাই ছেড়ে দিয়েছিল। পুজো মণ্ডপের স্থানগুলি চলতি বছর টানা বৃষ্টি এবং নিম্নচাপের জেরে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পুজোর দেড়-দু’মাস আগে থেকেই যে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়, এবার সেই কাজ মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল। মহকুমায় প্রায় ৪০-৫০টিরও বেশি পুজো কমিটি নিজেদের মণ্ডপ তৈরি করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর চিন্তায় ছিল।
ঘাটাল শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিনেরপল্লি পুজো কমিটির সম্পাদক স্বয়ং চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা। তাদের ৩৩তম বর্ষের থিম ‘লাল কেল্লা’। দেড়-দু’মাস ধরে কাজ থমকে ছিল। জল নামতে এবং কয়েক দিন বৃষ্টি কমতেই আমরা মণ্ডপকে সাজিয়ে নিয়েছি। ঘাটাল শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাউলি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জল নামার পর আমরা আর একটা মুহূর্তও নষ্ট করিনি। ফলে মণ্ডপ রেডি করতে আমাদের আর কোনও সমস্যা হয়নি। সৎসঙ্গপল্লি সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক পার্থ দাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের এবারের থিম ‘আঁচল’। আমরা শুধু জল নামার অপেক্ষায় ছিলাম। এখন আমাদের এলাকার মণ্ডপ দেখলে বুঝতে পারবে না যে বন্যার জন্য আমরা থমকে ছিলাম। দু’মাস ধরে যেখানে জল ছিল, আজ সেখানেই বাঁশ, কাঠ আর নানান সজ্জায় মণ্ডপগুলি সেজে উঠছে। ঘাটাল ব্লকের আনন্দপুর-কামারডাঙা আমরা সবাই সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় পোড়ে জানান, তাঁরা শুধু জল নামার অপেক্ষায় ছিলেন। এই ক’দিনেই তাঁদের থিমের কাজ প্রায় রেডি। একইভাবে দীর্ঘগ্রাম হোগলার মাঠ, বরকতিপুর, মনশুকার মতো এলাকার পুজো কমিটিগুলিও নতুন করে উৎসাহ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ঘাটালের দেবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, বন্যার কারণে যে দুশ্চিন্তা ছিল, এখন তা কেটে গিয়ে এক উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। ঘটালের একটি প্যান্ডেল সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র