


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনায় সন্দেশখালি থেকে হাবড়া এক রাতে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের একাধিক ‘প্রভাবশালী’ নেতা। সোমবার রাতে সন্দেশখালির মণিপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেশখালি ২ ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি শ্রীদাম হাওলিকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অধরা ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, বহিষ্কৃত ও বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের প্রভাবে এতদিন শ্রীদামকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সে ছিল শাহজাহানের ডানহাত। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের একটি অংশের দাবি।
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নারায়ণ করকে মেদিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে, সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে হাবড়ার আইএনটিটিইউসি সভাপতি তারক দে’র গ্রেপ্তারি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাবড়া শহরের অটো ও টোটো চালকদের কাছ থেকে তোলাবাজি চালাতেন তিনি। শহরে প্রভাব খাটিয়ে ‘অঘোষিত কর্তৃত্ব’ কায়েম করেন তারক—এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। প্রতিটি টোটো ও অটো চালকের কাছ থেকে মাসিক টাকা তুলতেন তারক। শুধু তাই নয়, শহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তারকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছিল। এমনকি হাবড়া উৎসবের নামে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ আছে তারকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার হাবড়ার ফুলতলা এলাকার এক টোটোচালক তারকের নামে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে বারাসতের টাকি রোড সংলগ্ন বিবেকানন্দ পল্লি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তারককে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। তবে, মঙ্গলবার থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় হাবড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে, মঙ্গলবার বারাসত পুরসভার কাউন্সিলার সহ ৩৫ জন তৃণমূল নেতার নামে বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সিআইসি অরুণ ভৌমিক এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের স্বামী প্রদীপ ঘরামি। বারাসতের বিজেপি নেতা রাজা চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এলাকায় সিন্ডিকেট, তোলাবাজি সহ বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের লম্বা অভিযোগ আছে। পুরস চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, কাউন্সিলারদের নামে অভিযোগ হয়েছে শুনেছি। তালিকায় কারা আছে জানি না।