নিউ ইয়র্ক: বিশ্বকাপের নক-আউটের টিকিট আগেই নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। তা সত্ত্বেও ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে পূর্ণশক্তির দল মাঠে নামান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। লক্ষ্য ছিল একটাই, জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে লিড নেওয়ার পর মনে হয়েছিল, বড়ো ব্যবধানে জিতেই মাঠ ছাড়বে জার্মানি। কিন্তু নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারি সাক্ষী থাকল চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড়ো অঘটনের। ইকুয়েডরের নাছোড়বান্দা মনোভাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে জার্মান ব্রিগেড। হার ১-২ গোলে। রাউন্ড অব ৩২-এর আগে সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট।
চারটি বিশ্বকাপে খেলে (২০২৬ এর আগে পর্যন্ত) মাত্র একবারই নক-আউটের গণ্ডি টপকেছে ইকুয়েডর। আর জার্মানি চারবারের চ্যাম্পিয়ন। পচা শামুকে পা কাটার পর হতাশা গোপন করেননি কোচ নাগেলসম্যান। এই হারকে ‘কৌশলগত আত্মহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমরা দারুণ শুরু করেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, লিড নেওয়ার পরেই তালগোল পাকিয়ে যায় যাবতীয় ছক। আর তাতেই কঠিন হয়ে যায় কাজ।’ প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন নাগেলসম্যান। উল্লেখ্য, জার্মানদের হারিয়ে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল হিসেবে ২০ বছর পর বিশ্বকাপের নক-আউটে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
আগামী ২৯ জুন শেষ ৩২-এর ম্যাচে খেলবে জার্মানি। প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে উলটোদিকে যারাই থাকুক না কেন নিজেদের রক্ষণভাগকে যে আরও জমাট করতে হবে, তা মেনে নিয়েছেন অধিনায়ক জোসুয়া কিমিচ। তিনি বলেন, ‘নিজেদের ভুলে বারবার প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দিচ্ছি আমরা। বিশেষ করে ডিফেন্সের ফাঁকফোকর রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাগ্য ভালো যে, তার জেরে এখনও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়নি। তাই সময় থাকতে ভুল শুধরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।’ ‘ই’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জিতে নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। জোড়া গোলে জয়ের নায়ক নিকোলাস পেপে।