


পরামর্শে পিজি হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সিরাজ আহমেদ।
হাতের কাছে কী রাখবেন?
ব্যান্ডেজ, ক্রেপ ব্যান্ডেজ রাখুন। সঙ্গে থাক অ্যান্টিসেপটিক তরল, অ্যান্টিবায়োটিক অয়েনমেন্ট।
ব্যথার জন্য মলম, স্প্রে।
চোট-আঘাত লাগার কারণ
ঘরেই বহু মানুষ পা হড়কে বা পিছলে পড়ে যান। তাছাড়া শিশুদের দরজার কোনায় আঙুল চিপে যাওয়াও খুব প্রচলিত চিত্র। ছোটাছুটি বা লাফালাফি করতে গিয়ে হঠৎ পড়ে যাওয়া, বয়স্ক লোকদের মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া পড়ে যাওয়া, হোঁচট খাওয়া, তরিতরকারি কাটতে গিয়ে আঙুল কেটে যাওয়া, কোথাও ধাক্কা লেগে আঘাত লাগা ইত্যাদি কারণেও আঘাত লাগতে পারে। আবার ট্রেনে-বাসে যাতায়াতের সময় আহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
অল্প রক্তপাতে
এই ধরনের আঘাতে প্রথমেই ক্ষতস্থান স্টেরিলাইজ করা গজ কাপড় বা সুতির পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে রক্ত বন্ধ করতে হবে। তারপর কলের জলে তা ভালো করে কলের জলে ধুয়ে নিয়ে অ্যান্টিসেপটিক তরল লাগিয়ে তার উপর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল মলম লাগাতে হবে। এরপর জায়গাটিকে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দিন। ক্ষতস্থান চেপে বাঁধবেন না। প্রতিদিন নতুন করে এই ড্রেসিং করতে হবে। তবে লোহা বা টিনে কাটলে ড্রেসিং করার পরেও টিটেনাস ইঞ্জেকশন নিতে হবে।
বেশি রক্তপাতের ক্ষেত্রে
বড় ধরনের চোট থেকে বেশি রক্ত বেরলে বুঝতে হবে ক্ষত অনেক গভীরে অবধি রয়েছে। তখন পাঁচ মিনিট টানা ক্ষতস্থানকে স্টেরিলাইজ করা গজ কাপড় বা সুতির পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে ও দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে যেতে হবে। শিশুদের মাথা ফেটে যাওয়ার সময়ও জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে, আইসপ্যাক (সরাসরি বরফ নয়) সেক দিতে দিতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
রক্ত না বেরলে
অনেক সময় কেটে ছড়ে যায় না কিন্তু আঘাত লেগে কালশিটে পড়ে যায়। ক্ষতস্থান ফুলে যায়। তখন দেখতে হবে চোট পাওয়া ব্যক্তির ক্ষতস্থানের অবস্থা কেমন। ধরা যাক, পা ফুলে গিয়েছে। তখন আঘাতের জায়গায় আইসপ্যাক সেক দিন মিনিট ১৫। তারপর ব্যথানাশক স্প্রে বা জেল লাগাতে পারেন। তারপর জায়গাটি হালকা করে বেঁধে পায়ের নীচে বালিশ দিয়ে একটু উঁচুতে পা রাখুন। বিশ্রাম নিন। হাতে বা কোমরে চোট পেলেও একই নিয়ম। তবে সেক্ষেত্রে সবসময় কোমর বা হাত উঁচুতে রাখতে পারবেন না কিন্তু বিশ্রাম অবশ্যই নিতে হবে। সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কোনও ক্রেপ ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হলেও তিনি জানাবেন। - লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়