Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

চরম বিপাকে জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়ারা, ইউজিসির বিধিতে বিতর্ক

উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ফেরানোর নামে আদতে কি জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়াদের হেনস্তার পথ তৈরি করা হচ্ছে? আপাতত এপ্রশ্নকে কেন্দ্র করে বিতর্ক একেবারে চরমে উঠেছে।

চরম বিপাকে জেনারেল ক্যাটিগরির  পড়ুয়ারা, ইউজিসির বিধিতে বিতর্ক
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ফেরানোর নামে আদতে কি জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়াদের হেনস্তার পথ তৈরি করা হচ্ছে? আপাতত এপ্রশ্নকে কেন্দ্র করে বিতর্ক একেবারে চরমে উঠেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নতুন নির্দেশিকা ‘প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’ কার্যকর। এই নির্দেশিকা প্রয়োগের প্রতিবাদে শনিবার ‘শেম অন ইউজিসি’ হ্যাশট্যাগে কার্যত তোলপাড় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Advertisement

পড়ুয়াদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের উপর কোনওরকম অত্যাচার কিংবা বৈষম্যমূলক ঘটনা ঘটলেই তার জন্য দায়ী করা হবে জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়াদের। এমনকি এক্ষেত্রে তাঁদের কোনওরকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হবে না। ফলে উল্লিখিত নির্দেশিকার অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে পুরোমাত্রায়। এরই প্রতিবাদে আগামী দিনে দিল্লির যন্তরমন্তরে লাগাতার ধরনা বিক্ষোভের প্রস্তুতিও নিচ্ছে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত পড়ুয়াদের একটি অংশ। এব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করতে ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ইউজিসি অবশ্য দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ওই রেগুলেশন কার্যকর হয়েছে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সমতা ফেরানো। ইকুইটি রেগুলেশন নিয়ে অর্থহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রোহিত ভেমুলা এবং পায়েল তাড়ভির মায়ের পিটিশনের ভিত্তিতে এসংক্রান্ত রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে ২০১৬ সালে পিএইচডি স্কলার রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, মেডিকেল পাঠরতা পায়েল তাড়ভিও ক্রমাগত হস্টেলে বর্ণবৈষম্য এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তারই জেরে ২০১৯ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গত ১৩ জানুয়ারি এব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে তা কার্যকরও হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম-সুযোগ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সেখানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত থাকবেন। এসসি, এসটি, ওবিসি, দলিত, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিও থাকবেন। এমনকি যুক্ত রাখতে হবে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমকেও। বর্ণবৈষম্য সংক্রান্ত কোনওরকম অভিযোগ উঠলেই তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ দানেরও ব্যবস্থা করবে এই ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’। এরই অপব্যবহারের আশঙ্কায় সরব হয়েছে পড়ুয়াদের একাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ