স্বার্ণিক দাস, কলকাতা:
স্বার্ণিক দাস, কলকাতা:
সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এখন একটাই ট্রেন্ড! লাল শাড়িতে মুগ্ধ করা ছবি। যেন মর্ত্যের উর্বশী। কিশোরী, যুবতী মায় বিগতযৌবনারাও মেতেছেন জেমিনাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ট্রেন্ডে। একইসঙ্গে তুঙ্গে ‘ন্যানো-বানানা’র জনপ্রিয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুড়োচ্ছেন লক্ষ লক্ষ লাইক, কমেন্ট। কিন্তু, নয়া এই ট্রেন্ডে গা ভাসাতে গিয়েছে অজানা বিপদ ডেকে আনছেন না তো?
সেই বিপদ যে কতটা ভয়য়ঙ্কর হতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ দিলেন ইনস্টাগ্রামের এক মহিলা ‘ইনফ্লুয়েন্সার’। তিনি তাঁর রিলে বলেন, ‘জেমিনাই-তে সবুজ কামিজ পরা একটি ছবি আপলোড করেছিলাম। কামিজটি ফুল হাতা ছিল। সেই ফটোকে সুন্দর করে ট্রেন্ডে গা ভাসাতে গিয়ে দেখি ভয়ঙ্কর কাণ্ড। স্লিভলেস ব্লাউজ ও শাড়িতে আমার সুন্দর ছবি এআই মারফত বানিয়ে দেয় জেমিনাই। দেখতে পাই, এআই ছবিতে আমার ডান হাতে ডেলটয়েড পেশির নীচে (কাঁধ ও হাতের সংযোগকারী পেশি) একটি তিল দেখা যাচ্ছে। বাস্তবে সেখানে আমার একটি তিল রয়েছে, একথা সত্যি। কিন্তু, আমি এআই ছবি তৈরি করতে আসল যে ছবিটি জেমিনাইতে আপলোড করেছিলাম, সেটিতে তো ফুলস্লিভ ব্লাউজ পরা! তাহলে জেমিনাই জানলো কীভাবে জামার তলায় তিল রয়েছে?’
তাঁর এই প্রশ্ন সারা ফেলে দিয়েছে নেট দুনিয়ায়। আতঙ্কে কাঁপছেন অনেকেই। তাহলে কি এআই ফটো বানানোর প্রতিশ্রুতিতে গোটা শরীর স্ক্যান করছে জেমিনাই? অন্যথায় জামার নিচে তিল রয়েছে কি না, তার সন্ধান পাওয়া কার্যত অসম্ভব। সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এআই আদতে কী কী ট্র্যাক করছে, তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয়। সেখানে কোন পরিভাষা (অ্যালগরিদম) দেওয়া রয়েছে, তা থেকে আদতে কী কী করা সম্ভব, তা প্রত্যেকের কাছেই ধোঁয়াশা। আপনার ছবি স্টোর করে জেমিনাই কোনও অসাধু ব্যবসার কাজেও ব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতারণা ফাঁদে পড়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। তাই প্রথম থেকেই এই ট্রেন্ডে গা না ভাসানোই উচিত।
অনেকেরই প্রশ্ন, সাধারণ জামাকাপড়ে থাকা ছবি আপলোড করলেও, তা শাড়িতে বদলে দিচ্ছে এআই। একেবারে খোলনলচে বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি। কীভাবে হচ্ছে এই চমৎকার? বিশেষত মহিলারাই এই ট্রেন্ডে আছেন। পুলিশের দাবি, এআই মারফত আগেও একাধিক ক্রাইম হয়েছে। নামজাদা অভিনেত্রীদের মুখাবয়বকে কাজে লাগিয়ে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। একই ঘটনা ঘটতে পারে যে কারও সঙ্গে। ব্ল্যাকমেলের শিকার হতে পারেন মহিলারা। যা প্রভাব ফেলতে পারে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে। এর আগে ‘ঘিবলি’ আর্টেও গা ভাসিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। পুলিশি সতর্কবার্তা সেই ট্রেন্ড এখনও স্তিমিত। এবার জেমিনাই এআই ট্রেন্ডে গা না ভাসানোর জন্য পুলিশ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সার, প্রত্যেকের তরফেই সচেতনতার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।