Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

উতথ্য গীতা

মহাভারতের শান্তিপর্বে অপ্রধান গীতাসমূহের মধ্যে উতথ্য গীতা অন্যতম। পিতামহ ভীষ্ম জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠিরকে ক্ষত্রিয়ধর্ম আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঋষি অঙ্গিরার পুত্র, বৃহস্পতির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বেদবেত্তা উতথ্য ও যুবনাশ্বের পুত্র মান্ধাতার সংবাদ পরিবেশন করেন।

উতথ্য গীতা
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মহাভারতের শান্তিপর্বে অপ্রধান গীতাসমূহের মধ্যে উতথ্য গীতা অন্যতম। পিতামহ ভীষ্ম জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠিরকে ক্ষত্রিয়ধর্ম আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঋষি অঙ্গিরার পুত্র, বৃহস্পতির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বেদবেত্তা উতথ্য ও যুবনাশ্বের পুত্র মান্ধাতার সংবাদ পরিবেশন করেন।

Advertisement

প্রকৃত ধর্ম, ধর্মাচরণ ও রাজকর্ত্তব্য উতথ্য গীতার আলোচ্য বিষয়।
যে রাজা প্রকৃত অর্থে প্রজাদের রক্ষা করেন তিনিই অধীশ্বর। কারণ প্রজাদের সুখ-দুঃখ, রাজ্যের নিয়ম-নীতি শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনই রাজার ধর্ম। রাজা যদি যথাযথ ধর্মের পথে চলেন তবে তিনি দেবত্ব লাভ করেন। অপরপক্ষে অধর্মের পথ অনুসরণ করলে সেই রাজা নরকে গমন করেন। পুরাকালে ঋষিগণ ইহলোক ও পরলোকের প্রতি দৃষ্টি রেখে ধর্মের রক্ষকস্বরূপ রাজাকে সৃষ্টি করেন। ব্রহ্মা প্রাণীকুলের মঙ্গলের জন্য ধর্ম সৃষ্টি করেন এবং প্রজাদের প্রতি অনুগ্রহবশতঃ রাজা ধর্ম প্রবর্ত্তন করেন।
‘সর্বে ধর্ম্মা রাজধর্মপ্রধানাঃ সর্বে বর্ণাঃ পাল্যমানা ভবন্তি। সর্বন্ত্যাগো রাজধর্মেতু রাজন্‌’। সমস্ত ধর্মের মধ্যে রাজধর্ম প্রধান, রাজধর্মের গুণেই সকল বর্ণ রক্ষিত হয় আর রাজধর্মে সর্বপ্রকার ত্যাগ রয়েছে এবং মুনিরা ত্যাগকেই শ্রেষ্ঠ ও প্রাচীন ধর্ম বলেন।
রাজধর্মের দণ্ডনীতি বিনষ্ট হলে বেদ বিনষ্ট হয়। সমাজে প্রচলিত সকল ধর্মই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ক্ষত্রিয়সম্বন্ধী প্রাচীন রাজধর্ম পরিত্যক্ত হলে সকল আশ্রমের সর্ববিধ ধর্মই লোপ পায়।
সমস্ত ভোগ, সর্বপ্রকার বিদ্যা এবং সকল প্রকার কার্য্যপ্রবৃত্তি রাজধর্মে কথিত আছে। সকল কার্য্যসাধনের উপায় এবং অপর সমস্ত ধর্ম রাজধর্মে নিহিত আছে। সকল লোক রাজধর্মের আশ্রয়ে আছে। সাংসারিক সকল কার্য্য রাজধর্মে নিহিত এবং সমস্ত জীবলোক রাজধর্মে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
লোকাচার ও বেদবোধিত চারটি আশ্রমের ধর্ম এবং আজীবন ব্রহ্মচারীর ধর্মও একমাত্র রাজধর্মে অন্তর্নিহিত রয়েছে।
ভৃগুর পুত্র মহাত্মা শুক্রাচার্য্য রাজার বিষয়ে রামচরিত্র উপাখ্যানে এই শ্লোকটি বলেন—
রাজানং প্রথমং বিন্দেত্ততো ভার্য্যাং ততো ধনম্‌।
রাজন্যসতি লোকস্য কুতো ভার্য্যা কুতো ধনম্‌।।
—প্রজা প্রথমে রাজাকেই লাভ করে, তারপর ভার্য্যা এবং তারপর ধনলাভ করে, সুতরাং সেই রাজ্য না থাকলে, প্রজার ভার্য্যা ও ধনলাভ হবে কি করে?
রাজত্বভিলাষী ক্ষত্রিয়গণের রাজ্যমধ্যে প্রজারক্ষা ব্যতীত আর কোন সনাতন ধর্ম নেই। রাজা ধর্মস্থাপনের জন্যই জন্মান, অভিলাষ পূরণের জন্য নয়। রাজাই জগতের রক্ষক।
উতথ্য গীতায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এই চতুর্বর্ণের মধ্যে ব্রাহ্মণের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়েছে। রাজকর্ত্তব্যে ব্রাহ্মণের যথাযোগ্য সমাদরস্বরূপ দান-ধ্যান, পূজা ও তাদের নানাবিধ অভীষ্ট পূরণের কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিরোচনের পুত্র বলির ঈর্ষা ও অভিমানের কথা বলা যায়। বলি বালক অবস্থা থেকেই ব্রাহ্মণদের নানাভাবে দোষারোপ করতেন। পরে স্বয়ং রাজলক্ষ্মী তাকে ত্যাগ করে ইন্দ্রের অনুগত হলে তিনি অনুতপ্ত হন।
সোনিয়া ভট্টাচার্যের ‘অন্য গীতা অন্য কথা’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ