নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ১০০ বছরে পা দিয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে পাঁচ ফেব্রুয়ারি ধর্মতলায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে সিপিআই। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা আসছেন যোগ দিতে। সবমিলিয়ে ক্ষমতা অনুযায়ী প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না নেতৃত্ব। কিন্তু দলেরই কয়েকজনের বক্তব্য, শতবর্ষের পার্টির একটি বিধায়ক পর্যন্ত নেই রাজ্যে। ভাণ্ডারে টাকার প্রবল টানাটানি। ধর্মতলা ভরাতে কার্যত নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে। আর জেলার সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, ‘অন্য পার্টি গাড়ি দেয়। বিরিয়ানি খাওয়ায়। আমাদের পার্টি কিছুই দেয় না। সমাবেশে যাব কেন?’ গাড়ি না পেলে কমিউনিউস্ট পার্টির সমর্থকরা সমাবেশে যেতে চান না! এ কেমন মূল্যবোধ? প্রশ্নের উত্তরে পার্টি নেতাদের ব্যাখ্যা, ‘সদস্য, ঘনিষ্ঠ ও সমর্থক, এই তিন ধরনের মানুষ সমাবেশে মূলত আসেন। সমর্থকদের কেউ কেউ এমন কথা বলছেন। অন্যরা নন। তবে পার্টির অত টাকা নেই যে, বিরিয়ানি খাওয়াবে, গাড়ি ভাড়া করবে। কমিউনিস্টরা সাধারণত এই বাহুল্যে বিশ্বাস করে না।’
Advertisement
যদিও পার্টির দুর্দশা লাগাতার বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করেন সিপিআইয়ের একাধিক নেতা। তাঁরা মনে করেন, ‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভার জমি অধিগ্রহণ নীতি ক্রটিপূর্ণ ছিল, সে কারণেই বিপর্যয় নেমে এসেছে বাম আন্দোলনে।’ তবে সেই মন্ত্রিসভায় সিপিআই’ও ছিল। ফলে এখন উল্টো সুরে কথা বললেও বৃহত্তর বাম ঐক্যের পথ থেকে পিছু হটছে না সিপিআইয়ের রাজ্য নেতৃত্ব। সম্প্রতি রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাখডাক না করেই বলেন, ‘বামফ্রন্ট সরকার হেরে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ত্রুটি।’ এর পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে, আমরা আছি।’ এর পাশাপাশি বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথাও বলেন স্বপনবাবু। তাঁর কথায়, ‘সমস্ত বাম দল এক হলে লড়াই-আন্দোলন আরও জোরদার হবে।’



