


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মেয়র বনাম বিধায়ক! এবার শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এমন লড়াই দেখবেন পুরবাসী। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন মেয়র গৌতম দেব। আর বিজেপির প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক শংকর ঘোষ। দু’জনই রাজ্য রাজনীতিতে খুবই পরিচিতমুখ। তাঁদের এই দ্বৈত লড়ায়ের জেরে শিলিগুড়ি এবার নজরকাড়া কেন্দ্র। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতির ময়দানে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মাস খানেক আগেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে মেয়র ঘোষণা করেছিলেন, জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি। এরপর শিলিগুড়িতে দেওয়াল লিখন করেন। মেয়রের সরকারি গাড়ি ছেড়ে ভাড়া গাড়িতে চাপছেন। এতেই জল্পনা ছড়িয়েছিল শিলিগুড়িতে কী এবার প্রার্থী হচ্ছেন গৌতম? মঙ্গলবার তাতেই সিলমোহর দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে মেয়রের নাম ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বসিত জেলা তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে কলেজপাড়ায় তাঁর বাড়িতে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন।
বাড়িতে রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে তারপর প্রচারে নামেন গৌতম। কলেজপাড়ায় প্রতিবেশী বয়স্ক নাগরিকদের আর্শীবাদ নিয়ে প্রধাননগরে যান। স্থানীয় মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের আর্শীবাদ প্রার্থনা করেন। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়রকে নিয়ে জোর প্রচার শুরু হয়েছে। প্রচারে তাঁকে কাজের মানুষ, কাছের মানুষ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিজের জন্মভূমিতে ফিরতে চেয়েছিলাম। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই তা সম্ভব হল। কলেজপাড়াতেই জন্ম। এখন জন্মভূমির প্রতি ঋণ পরিষধ করতে চাই। তাই শহর সাজানো ও উন্নয়ন করার স্বপ্ন নিয়েই নাগরিকদের কাছে যাব। এবার এখানে জোড়াফুল ফুটবে বলেই আশা করছি।
অন্যদিকে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আচমকা সিপিএমের ভোটের ময়দান ছেড়ে গেরুয়া জার্সি গায়ে চাপান শংকর ঘোষ। তিনি ভোটে জয়ী হন। বর্তমানে তিনি বিধায়ক। বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি মেয়রের বিরুদ্ধে সরব হন। এবারও ভোটে তৃণমূলকে হারানোর আগাম ঘোষণা করেছেন। এবার তাঁকেই ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি। ২৪ ঘণ্টা আগে সোমবার বিজেপি তাঁর নাম ঘোষণা করেছে। ওই দিনই তিনি শহরে দেওয়াল লিখন করেন। এদিন তিনি শহরের একটি মন্দিরে পুজো দেন। মহাবীরস্থান বাজারে নির্বাচনী প্রচার সারেন। কারো কাছে হাতজোড় করে যান, আবার কারো সঙ্গে হাত মিলিয়ে আর্শীবাদ চান। বিকেলে হিলকার্ট রোডে নির্বাচনি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। সাংবাদিকদের কাছে বিধায়ক জানান,এখন শহরের নাগরিকরা বিজেপির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য এবারও এখানে শেষ হাসি বিজেপিই হাসবে। অন্যদিকে, সিপিএম এখানে পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শরদিন্দু চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে। একদা তাঁর সহকর্মী ছিলেন শংকর।