শুভজিৎ অধিকারী: স্বর্গলোকে ঘোর সংকট। কী করবেন, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না স্বয়ং ত্রিদিব। আর তখনই ডাক পড়ত গণেশের। তিনি ঠিক মাথা খাটিয়ে কিছু না কিছু সুরাহার পথ বাতলে দিতেন। তাই, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র তিনি। শাস্ত্রমতে, দেবাদিদেব মহাদেবের পরই দেবকুলের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হিসেবে তাঁর আসন পাতা। গণেশের সেই পাণ্ডিত্য আমার দেখলাম মহাভারত রচনাকালে। প্রজাপতি ব্রহ্মা ব্যাসদেবকে সর্বকালের সেরা মহাকাব্য লেখার নির্দেশ দিলেন। ব্যাসদেব পড়লেন মহাফাঁপরে। এ তো খুব সহজ কাজ নয়! একার পক্ষে সম্পূর্ণ করা দুরূহ। ব্যাসদেব ব্রহ্মার শরণ নিলেন—‘প্রভু, এমন মাহকাব্য লিখতে আমার একজন সহযোগী চাই। আমি শ্লোক বলে যাব, শুনে-বুঝে তিনি তা লিপিবদ্ধ করবেন।’ ব্রহ্মা অনেক ভেবেচিন্তে ব্যাসদেবকে বললেন, ‘তোমার এই মহৎকর্মে সাহায্য করতে পারেন একজনই। তিনি পার্বতী-পুত্র। তাঁকে তুমি অনুরোধ করো।’ ‘যথা আজ্ঞা প্রভু’ বলে ব্যাসদেব চললেন গণেশের কাছে। কোনোরকম ভনিতা না করেই বললেন, ‘প্রভু, তুমি হলেন গণনায়ক। তাই সমগ্র ভারতের গণহৃদয় তোমাকেই লিখে দিতে হবে।’ গণেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর রাজি হলেন বটে, কিন্তু কঠিন এক শর্ত আরোপ করে বসলেন। বললেন, ‘আমি লিখতে পারি। তবে, একনাগাড়ে তোমাকে শ্লোক বলে যেতে হবে। যেখানেই তোমার মুখ থামবে, সেখানেই আমার কলমও থেমে যাবে।’
ব্যাসদেব পড়লেন গভীর চিন্তায়। পরক্ষণেই বললেন, ‘তথাস্তু প্রভু। তবে আমারও একটা সামান্য শর্ত রয়েছে। তুমি যদি অনুমতি দাও বলতে পারি। গণেশ আশ্বস্ত করলেন। ব্যাসদেব বললেন, ‘আমি যেসব শ্লোক বলব, সেগুলি ভালো করে বুঝে লিখতে হবে। না বুঝে লেখা যাবে না।’ গণেশ বললেন, ‘এ আবার কেমন শর্ত! ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছে পূরণ হবে।’
ব্যাসদেব শুরু করলেন শ্লোক বলা। গণেশ দ্রুত লিখতে লাগলেন। মজার ব্যাপার হল, নাগাড়ে আর কত শ্লোক বলা যায়! একটু ভেবেচিন্তে তো বলতে হবে। গৌরীর ছেলেটি অত্যন্ত একগুঁয়ে। একবার তাঁর লেখনী থেমে গেলে মহাভারত আর শেষ হবে না। ব্যাসদেব তখন মনে মনে নতুন শ্লোক রচনার আগে কিছু জটিল তত্ত্বকথা ও ধাঁধা গণেশকে শুনিয়ে দিতেন। গণেশ সেগুলির অর্থ উদ্ধার করার আগেই ফের শ্লোক বলতে শুরু করতেন। এভাবেই গণেশ আর ব্যাসদেবের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা পেলাম পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য ‘মহাভারত’। শ্রুতি লেখক হিসেবে গণেশের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল স্বর্গলোকে। আমাদের একাধিক পুরাণেও তাঁকে কবি ও পণ্ডিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে।
অথচ, এহেন গণেশ বিদ্যার দেবতা না হয়ে, হলেন কি না অর্থনীতির উপাস্য! ব্যবসা-বাণিজ্যের সমৃদ্ধির দেবতা। তাঁর আরাধনা না করে ব্যবসা শুরু করেন এমন সাধ্যি কার? সেই পুরাণ যুগ থেকে আজও আধুনিক বিশ্বে গণেশের সঙ্গে টাকাকড়ি, লাভ-ক্ষতির নিবিড় সম্পর্ক। অর্থাৎ, যেখানেই গণেশ, সেখানেই অর্থনীতির বিকাশ। স্থানভেদে নানা নামে পূজিত হন তিনি—গণপতি, একদন্ত, বিনায়ক, ঢুন্ডিরাজ। প্রাচীন ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের লোকেরাও তাঁর উপাসনা করতেন। গণেশের বিদেশযাত্রাও মূলত তাঁদের হাতেই। চীনে তাঁকে সমৃদ্ধি আনয়নকারী দেবতা হিসেবে চিনিয়েছেন মহাযান বৌদ্ধরাই। প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে চীনের কুংসিন প্রদেশের একটি মন্দিরে তিনি ‘শো-তিয়ান’ কিংবা ‘হুয়ানক্সি তিয়ান’ নামে পূজিত হন। আনন্দের ও বন্ধুবৎসল্য
দেবতা তিনি। দুনহুয়াং প্রদেশের বিখ্যাত মোগাও গুহায় ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রাচীন গণেশ মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। কোয়াংঝৌ শহরের কাইইউয়ান মন্দিরটি মূলত বৌদ্ধমন্দির হলেও হিন্দু দেবদেবী ও ভগবান গণেশের খোদাই করা মূর্তি রয়েছে। ত্রয়োদশ শতকে তামিল বণিকরা মূর্তিগুলি খোদাই করেছিলেন বলে মনে করেন প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। গণেশ মূর্তির ভাস্কর্যগুলি অত্যন্ত বিরল ও প্রাচীন। সমৃদ্ধশালী দেশ জাপানেও তিনশোর আশপাশে গণেশের চোখধাঁধানো মন্দির অবস্থিত। সেখানে তিনি পূজিত হন ‘কঙ্গি তেন’ নামে।
পুরাণ পণ্ডিতদের মতে, সৃষ্টির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনার শুরু। সেই থেকেই সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ঐরাবতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাচীন নৃপতিরা তাঁদের ভাগ্যকে অনুকূলে রাখতে মুকুটে-মুদ্রায় ও সিংহাসনে হস্তিচিহ্ন স্থাপন করতেন। এখান থেকেই আমাদের বিশ্বাস জন্মায় শ্রীগণেশ হলেন সমৃদ্ধির দেবতা—সিদ্ধিদাতা। তাই, ব্যবসায়ীদের কাছে গৌরীপুত্রের এতবেশি কদর।
তবে, মহাদেবের নির্দেশ মতো অন্যান্য দেব-দেবীর পুজো শুরুর আগে কেবলমাত্র আবাহন মন্ত্রেই পূজিত হওয়া ছাড়া গণেশ কোনোদিনই ক্লাব-সার্বজনীন দেবতা হয়ে ওঠেননি। প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ কিংবা মুঘল আমলে কোনো কোনো রাজা অথবা বড়ো ব্যবসায়ী, বণিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে গণেশ-উৎসব করতেন। ভারতে ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার পর সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। বলা ভালো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ, ব্রিটিশ শাসকরা মনে করতেন, সামাজিক উৎসবকে ঘিরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সরকার বিরোধী মতামত প্রকাশ পায়। ব্রিটিশদের অঘোষিত ফতোয়ায় গণেশ হয়ে পড়েন একান্ত গৃহস্থ দেবতা। আর সেই গৃহ ছিল শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের। মহারাষ্ট্র বরাবরই ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার প্রায় সকল উচ্চবর্ণের ব্যবসাদারদের বাড়িতে উপাস্য হয়ে ওঠেন গণপতি। কিন্তু, বাড়ির চৌহদ্দির বাইরে গণেশকে অধিষ্ঠিত করেননি কেউই। ব্রিটিশদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে সেটা করেছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথমসারির চরমপন্থী নেতা লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলক।
সময়টা ১৮৯৩ সাল। ব্রিটিশরা দ্বিজাতি তত্ত্বকে সামনে রেখে দেশভাগের সলতে পাকাচ্ছেন। দেশের নানা প্রান্তে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। তখনই তিলক ভাবলেন মারাঠাভূমে সার্বিক ঐক্যের প্রয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণ একটা উৎসব চাই। সামনেই গণেশ চতুর্থী। অর্থাৎ, শ্রীগণেশের জন্মদিন। তিলক গণ-অংশগ্রহণে এই চতুর্থী পালনে উদ্যোগী হলেন। পুনে শহরে বিশাল মণ্ডপ করে গণেশ পুজোর আয়োজন করলেন। টানা দশদিন ব্যাপী উৎসব। মঞ্চে জাতীয়তাবাদের মোড়কে নানা অনুষ্ঠান। ব্রিটিশ-বিরোধী স্লোগান, বক্তব্য। দাবি উঠল স্বরাজ বা আত্মশাসন প্রতিষ্ঠার। তিলকের হাত ধরে সেই প্রথম গণেশ ‘সার্বজনীন’ হয়ে উঠলেন। আজকের বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ উৎসব ঘিরে এত যে উন্মাদনা, তার কৃতিত্ব প্রাপ্য তিলকেরই।
কিন্তু, বাংলায় জাতিগত বৈচিত্র ও ধর্ম সংস্কৃতির পরম্পরায় গণেশ আরাধনা থেমে থাকে দেব-দেবীর পুজো প্রারম্ভের মন্ত্রপাঠেই। বছরে চারদিন গণেশ মণ্ডপে বসতেন মা পার্বতীর সঙ্গে। আর হ্যাঁ, বাংলায় মূলত নববর্ষ ও অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রীগণেশ পুজো পেতেন
মূলত ব্যবসায়ীদের কাছে। যাকে বলা হয় হালখাতার মহরৎ উৎসব। ক্রেতাদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ, খাওয়ানো ছিল এই উৎসবের মূল
প্রথা। কিন্তু, ব্যবসায়ীরা কোনোদিন ব্যক্তিগত উদ্যোগের বাইরে উৎসবকে সার্বজনীন করে তোলেননি। মহাসমারোহে গণেশ চতুর্থী পালনেও গরজ দেখাননি কোনোদিনই। বরং, বাংলার হৃদয়জুড়ে ছিলেন বিশ্বকর্মা। আমরা যাঁরা আশির, নব্বই দশকে বড়ো হয়েছি, তখন শারদোৎসবের গন্ধ পেতাম বিশ্বকর্মার পুজো প্যাণ্ডেলে ঢাকে কাঠি পড়লে।
আয়োজক থাকতেন শিল্প, কলকারাখানার মালিক, শ্রমিকরা।
আসলে, আমাদের এই বাংলা অবস্থানগত বৈশিষ্ট্যের গুণে সমৃদ্ধশালী প্রদেশ ছিল। তবে, ব্যবসা বা বিপণনে নয়। উৎপাদনশিল্পে। ১৮৫৫ সালে ভারতে প্রথম চটকল স্থাপিত হয় রিষড়াতে। একে একে গঙ্গার দু’পাড়ে ৬০টির কাছাকাছি চটকল রমরমিয়ে চলতে শুরু করে। কলকাতা সংলগ্ন ঘুসুড়িতে ১৮১৮ সালে প্রথম স্থাপিত হয় সুতাকল। পরে শ্রীরামপুর, রিষড়া, কোন্নগর, সোদপুর, বেলঘরিয়া, হাওড়া, উলুবেড়িয়া, মৌড়িগ্রাম, ফুলেশ্বর সহ একাধিক স্থানে সুতা ও কাপড়ের কল গড়ে ওঠে। বালিতে প্রথম কাগজ কল তৈরি হয়। ধীরে ধীরে শ্রীরামপুর, টিটাগড়, নৈহাটি, দামোদর, ত্রিবেণীতেও স্থাপিত হয়। কাঠ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে বাংলা। দেশালাই শিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার নামও। রেশমশিল্প, লৌহ ইস্পাত, ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, হিন্দমোটর, বাই সাইকেল তৈরির কারখানাও ছিল বাংলার অলঙ্কার।
সে সব এখন অতীত। উৎপাদনের শিল্পাঞ্চলগুলি হয় শ্মশানভূমে পরিণত, নতুবা সেখানে গড়ে উঠছে বহুতল। গত কয়েকদশকেও শ্রমনিবিড় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলা। সেই জায়গায় উল্কাসম গতিতে বেড়েছে নির্মাণশিল্প। মানে প্রমোটারি আধিপত্য। বেড়েছে পণ্য বিপণন নির্ভর শপিংমল। তাতে ব্যবসায়ী ও বণিকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি শিল্পোদ্যোগীর সংখ্যা। বাড়েনি কর্মসংস্থান। স্বাভাবিকভাবেই কদর কমেছে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলায় তাঁর জায়গা ক্রমেই দখল করছেন শ্রীগণেশ।
গত প্রায় দু’দশক ধরে বাংলায় মুম্বইয়ের ধাঁচে গণেশ চতুর্থী উদযাপনে উন্মাদনা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়েছে। তার অনেকগুলি কারণের মধ্যে শিল্প-কারখানার ‘অন্তর্জলিযাত্রা’ একটিমাত্র কারণ। এছাড়াও অনেকগুলি কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুঘটকের কাজ করছে। যেগুলি বাংলার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষাকে বড়ো প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। আসলে, বাংলা ঐতিহাসিকভাবে অনন্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। সাধারণত, কোনো অঞ্চলের সংস্কৃতি আর্থ-সামাজিক ও জনগোষ্ঠীর কাঠামোর উপর নির্ভর করে। একদা ভারতের পশ্চিম অংশে সরস্বতী নদী প্রবাহিত হয়েছিল। সেটি হারিয়ে যাওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে ভাগীরথীর তীরে পৃথক একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে। উর্বর ভূমির দৌলতে কৃষিনির্ভর আর্থিক বিকাশ ঘটতে থাকে দ্রুত। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বসবাসকারী মানুষের মন ও হৃদয় অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের চেয়ে নমনীয় ও দরদি হয়ে ওঠে। সেই মতোই তাঁরা দেবদেবীর আরাধনা শুরু করেন। পাশাপাশি, বৈষ্ণব ভক্তিবাদ আন্দোলনও বাংলাকে প্রভাবিত করে। শাক্ত-শৈব-বৈষ্ণব—এই ত্রিধারা একসঙ্গে চলতে থাকে। বাসিন্দাদের কাছে উপাস্য হয়ে ওঠেন শিব, বিষ্ণু, শ্রীকৃষ্ণ, ইন্দ্র, বরুণ, দেবীদুর্গা, কালী, মনসা, শীতলা, কার্তিক, সত্যনারায়ণ, ধম্মো ঠাকুর সহ অন্যান্য দেবদেবী। যে যাঁর মতো সাধন-ভজন করতেন। বৈচিত্রের মধ্যে দারুণ এক ধর্মীয় সমন্বয় আঁকড়ে বাঙালি তার ঐতিহ্য পরম্পরা বজায় রেখেছে। এটাই আমাদের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এবং গোটা জাতির শক্তিও।
গণেশ চতুর্থীতে শ্রীগণপতির আরাধনা আরও প্রসারলাভ করুক। সিদ্ধিদাতার কৃপায় বাংলায় আর্থিক বিকাশ তরান্বিত হোক। অচিরেই মুম্বইকে ছাপিয়ে যাক কলকাতা। কিন্তু, বাংলা-বাঙালির ধর্মীয়-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারা যেন অক্ষুন্ন থাকে। কেউ যাতে ভুলিয়ে দিতে না পারে আমাদের পুজো-পার্বণ, আচার-প্রথার বহমান মাহাত্ম্যকে। লাড্ডুর গন্ধে যেন লেপটে থাকে নিখাদ বাঙালিয়ানা।