নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মদ্যপান করে মত্ত রেল স্টেশনের গেটম্যান। টলতে টলতে ঘরের সিঁড়ি টপকাতে গিয়ে পড়লেন উল্টে-মাতালের এইসব কীর্তি দেখে সাধারণত মানুষ হেসে ওঠে। কিন্তু এই ছবিটি দেখে কারও হাসি আসেনি। উল্টে সবাই সিঁটিয়ে গিয়েছে আতঙ্কে। কারণ গেটম্যান নেশার ঘোরে রেলগেট বন্ধই করতে পারেননি। হাট করে খোলা দু’দিকের গেট। আর দ্রুত গতিতে লাইন দিয়ে ছুটছে ট্রেন। এই পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক ছিল। বরাত জোরে তা হয়নি।
মঙ্গলবার গভীর রাত। হাওড়া-তারকেশ্বরর লাইনের নসিবপুর স্টেশন। নিয়ামত আলি নামে এক ব্যক্তি স্টেশনে গিয়েছিলেন বন্ধুকে আনতে। তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও তোলেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গেটম্যান ঘরের সামনের সিঁড়িটুকুও টপকাতে পারছেন না। নেশার ঘোরে পা টলে বারবার পড়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতেই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার তা ভাইরাল হয়। ছবির দেখে ছড়ায় আতঙ্ক। রেলের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। নিয়ামতবাবু বলেন, ‘রাতে নসিবপুর স্টেশন গিয়েছিলাম। এই ভয়াবহ ঘটনাটি দেখতে পাই। রাস্তার উপর দু’দিকের রেলগেটই খোলা ছিল। হাওড়ামুখী একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়েছিল। অন্য লাইনে নসিবপুরমুখী একটি ট্রেন ছুটে আসছিল। সে সময় গেট বন্ধ না করে গেটম্যান নেশায় মত্ত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গেটম্যানকে সাসপেন্ড করেছে রেল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘এক গেটম্যানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। রেলযাত্রা নিরাপদ করতে সর্বদা কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’ রেলের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্নের ঝড় থামছে না। ব্যান্ডেলের বাসিন্দা অমিত পাশোয়ান নামে এক নিত্যযাত্রী বলেন, ‘রেল পরিষেবার সর্বত্র ঘুণ ধরেছে। আমাদের বাধ্য হয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। রেলকর্তার কথায় আশ্বস্ত হতে পারছি না।’
সাম্প্রতিক সময় বারবার রেল পরিষেবার বহু ত্রুটি হাওড়া-বর্ধমান ও হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখায় প্রকাশ্যে এসেছে। কখনও প্যান্টোগ্রাফ ছিঁড়েছে। কখনও স্টেশনে না দাঁড়িয়ে লোকাল ট্রেন চলে গিয়েছে অন্যত্র। এই বেহাল পরিস্থিতির আবহে মঙ্গলবার রাতের ঘটনাটি যোগ করেছে অন্য মাত্রা। সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেন, ‘রেল পরিষেবার সর্বত্র বেনজির ব্যর্থতা। সেই দায় কেন্দ্রকে নিতেই হবে।’