Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নেতাজি-কবিগুরুর ছবি দেওয়া আলোকোজ্জ্বল গেট, আধুনিক রূপে সেজে উঠছে মহাজাতি সদন

নেতাজি-কবিগুরুর ছবি দেওয়া আলোকোজ্জ্বল গেট, আধুনিক রূপে সেজে উঠছে মহাজাতি সদন
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আধুনিক মোড়কে সেজে উঠতে চলেছে বঙ্গের বিপ্লব সাধনার অন্যতম পীঠস্থান মহাজাতি সদন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজরিত এই স্থান স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার। এই ঐতিহাসিক সদনকে আরও আলোকোজ্জ্বল করে তুলতে প্রয়াস নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আধুনিক সময়ের দাঁড়িয়ে কি কি পরিবর্তন আনা হবে, তার রূপরেখা তৈরি হয়েছে বোর্ড মিটিংয়ে। তারপর পূর্ত দপ্তরের সিভিল এবং ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

সম্প্রতি মহাজাতি সদনের অছি পরিষদের বোর্ড মিটিং হয়। নতুন করে সাজিয়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নেতাজি এবং রবীন্দ্রনাথের ছবি দিয়ে সুদৃশ্য একটি আলোকোজ্জ্বল গেট তৈরি করা হবে। ওই চত্বর দিয়ে যাতায়াতের সময় মানুষ তা দেখতে পাবেন। যাঁরা কলকাতায় প্রথমবার আসছেন তাঁরাও গেটটি দেখে মহাজাতি সদনকে সহজে চিনতে পারবেন। মূল গেট ছাড়াও ভিআইপি গেটটি আধুনিক রূপে সাজানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাজাতি সদনে রয়েছে বহু দুষ্প্রাপ্য বই। এই অবসরে সেগুলিও সংস্কারের পরিকল্পনাও হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার প্রয়োজনে বইগুলি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে অক্ষত রাখতে হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। পাশাপাশি সদনের মধ্যে থাকা অমূল্য ছবিও সংস্কার করা হবে। এছাড়া সদনের সাউন্ড সিস্টেমেরও আধুনিকীকরণ হচ্ছে। খোলনলচে বদলে ফেলা হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান প্রায়শই হয়। তাই মাইক্রোফোন, সাউন্ড বক্স সহ অন্যান্য সামগ্রীগুলিও সময়োযোগী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদনের করিডর, গ্রিনরুম, ভিআইপি রুম, রেস্ট রুম, শৌচাগারও আধুনিক রূপে গড়ে তোলা হবে। সবমিলিয়ে নতুন রূপে দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাদী ভবন।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মহাজাতি সদনের। ১৯৩৯ সালের ১৯ আগস্ট নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিধানচন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৪১ সালে সুভাষ বসু দেশ ত্যাগ করার পর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তারপর স্বাধীন হয় দেশ। ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মহাজাতি সদন বিল পাস হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় নির্মাণ কাজ আবার শুরু করেন। তারপর ১৯৫৮ সালের ১৯ আগস্ট মহাজাতি সদনের দ্বারোদঘাটন করেন বিধান রায়। ইতিহাসের পাতায় শুধু নয় বাংলা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে মহাজাতি সদন। বাংলার বীর বিপ্লবী এবং বরেণ্য মনীষীদের বহু কাহিনি জড়িয়ে এই সদনকে ঘিরে। ফলে বাঙালির কাছে আলাদা তাৎপর্য বহন করে কলকাতায় মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশনের পাশে থাকা এই ঐতিহাসিক ভবনটি। 
মহাজাতি সদন আধুনিকীকরণ করার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অছি পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মহাজাতি সদনের সচিব নুরুল হুডা। তাঁর বক্তব্য, ‘সদনের গরিমা অক্ষুন্ন রেখে কিছু আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা হয়েছে। কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে পূর্তদপ্তরের কাছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ