


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: গ্যাসের আকাল। হস্টেলে রান্না বন্ধ। মুড়ি খেয়ে কাটাতে হচ্ছে সাবড়াকোণ সরকারি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পড়ুয়াদের। এই অবস্থায় কলেজ চত্বরে ঝড়ে পড়ে যাওয়া শুকনো কাঠ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার জন্য নতুন করে মাটির উনুন তৈরি করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, আমরা দূর থেকে ট্রেনিং নিতে এসেছি। সকলের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। হস্টেলে রান্না বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে মুড়ি চিবিয়ে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু, এভাবে কতদিন কাটবে? কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্যাসের ডিলারকে ফোন করলেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বিকল্প হিসাবে কলেজ চত্বরে পড়ে থাকা শুকনো কাঠ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সাবড়াকোণ সরকারি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ মনোজ কুমার পাণ্ডে বলেন, হস্টেলে গ্যাসের সমস্যা হয়েছে। শনিবার হস্টেলে রান্না সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আমরা গ্যাসের ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তা সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসাবে কাঠের জ্বালানিতে রান্না করার চেষ্টা চলছে।
কলেজের হস্টেল সুপার অরিন্দম ঘোষ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে হস্টেলে মোট ৬৬জন ছাত্র রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্যরা মিলিয়ে প্রতিদিন দু’বেলা ৭০জনের রান্না হয়। একটি ১৯কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারে দু’ থেকে তিন দিন রান্না হয়। অর্থাৎ, প্রতি মাসে প্রায় ১২টি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। শুক্রবার বিকালেই তা শেষ হয়ে যায়।
আমরা কয়েকদিন আগে থেকেই গ্যাসের জন্য ডিস্ট্রিবিউটারকে বলেছি। কিন্তু, সাপ্লাই নেই বলে তারা ফিরিয়ে দেয়। শনিবার রান্না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পড়ুয়াদের কেউ কেউ হোটেলে খেতে যায়। বাকিরা মুড়ি খেয়ে কাটিয়েছে। এই অবস্থায় রাঁধুনিদের বিকল্প হিসাবে কাঠের জ্বালানিতে রান্না করার জন্য বলা হয়েছে। কলেজ চত্বরে ঝড়ে পড়ে যাওয়া কিছু শুকনো কাঠ মজুত ছিল। সেগুলি দিয়ে রান্না করার তোড়জোড় চলছে।
রবিবার সকালে কলেজে গিয়ে দেখা গেল, রাঁধুনিরা ইটের টুকরো আর মাটি দিয়ে উনুন তৈরি করছেন। সেই সঙ্গে কিছু কাঠ এনে উনুনশালে জমা করা হয়েছে। রাঁধুনি রঘুনাথ দুলে, সুমিত্রা দুলে বলেন, আমরা বহু বছর ধরে হস্টেলে রান্না করছি। গ্যাসের অভাবে রান্না হয়নি। এমন ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদিন ৭০জনের রান্না করা হয়। এই প্রথমবার তা হল। এতজনের খাবারের ব্যবস্থা কীভাবে হবে তা নিয়ে আমরাও চিন্তিত হয়ে পড়ি। তাই শুকনো ডাল দিয়ে আপাতত কাজ চালানো হবে। এদিনই উনুন তৈরি করা হয়েছে।
কলেজের পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, মিড ডে মিল অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকারের কথা বলে হয়েছে। তা সত্ত্বেও হস্টেলে গ্যাসের অভাবে রান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মুড়ি খেয়ে কাটাতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে গ্যাস সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা উচিত।