Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুকিংয়ের ২২ দিন পরও মেলেনি গ্যাস, ঘুঁটে নিয়ে প্রতিবাদে তৃণমূল

গৃহস্থের হেঁশেলে গ্যাসের জোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যত আশ্বাসই দিক না কেন, তার উলটো ছবিই ধরা পড়ছে দিকে দিকে। বেলঘরিয়া সহ বিস্তীর্ণ শহরতলি এলাকায় রান্নার গ্যাসের সমস্যা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।

বুকিংয়ের ২২ দিন পরও মেলেনি গ্যাস, ঘুঁটে নিয়ে প্রতিবাদে তৃণমূল
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গৃহস্থের হেঁশেলে গ্যাসের জোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যত আশ্বাসই দিক না কেন, তার উলটো ছবিই ধরা পড়ছে দিকে দিকে। বেলঘরিয়া সহ বিস্তীর্ণ শহরতলি এলাকায় রান্নার গ্যাসের সমস্যা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। শুক্রবার বেলঘরিয়ায় ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাস এজেন্সির অফিসে হাজির হন গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, ২০-২২ দিন আগে বুকিং থাকা সত্ত্বেও গ্যাস মিলছে না। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এদিন ওই গ্যাস এজেন্সির অফিসের সামনে ঘুঁটে হাতে প্রতিবাদে শামিল হন তৃণমূল কর্মীরা। কামারহাটি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নীলগঞ্জ রোডে ভারত গ্যাসের এজেন্সি রয়েছে। এখান থেকে কেন্দ্রের ‘উজ্জ্বলা’ প্রকল্পের সিলিন্ডার নেন বহু গ্রাহক। কিন্তু ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হতেই গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের। সহজে সিলিন্ডার বুকিং হচ্ছে না। এমনকি, বুকিংয়ের ২২ দিন পরও বহু গ্রাহক গ্যাস পাননি বলে অভিযোগ। ডিস্ট্রিবিউটর বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কর্মীরাও সঠিক তথ্য না দিতে পারায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। 

Advertisement

এই অবস্থায় শুক্রবার শতাধিক গ্রাহক ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে এজেন্সির অফিসের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ লাইন পড়ে। সিলিন্ডার নিয়ে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে এজেন্সির কর্মীদের তীব্র বচসা বেধে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেলঘরিয়া থানার পুলিশকে আসতে হয়। এদিন গ্যাসের লাইনে দাঁড়ানো রিয়া গুপ্তা বলেন, ‘২২ দিন আগে গ্যাসের বুকিং করেছি। কিন্তু এখনও পেলাম না। বাড়িতে রান্নার গ্যাস নেই। এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব! বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রেখে এখানে এসেছি।’  ভুক্তভোগী রঞ্জিত গুহ দাস বলছিলেন, ‘বাড়িতে গ্যাস নেই। অন্যের হাতে পায়ে ধরে হাফ সিলিন্ডার গ্যাস ধার করে এনে চালাচ্ছি। কিন্তু এভাবে কতদিন চালানো যায় বলুন তো! গ্যাসের  বুকিংও তো নিচ্ছে না।’ সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি এদিন এখানে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলও। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার বিমল সাহার নেতৃত্বে দলের কর্মীরা গলায় প্ল্যাকার্ড ও ঝুড়িতে ঘুঁটে এনে বিক্ষোভ দেখান। বিমলবাবু বলেন, ‘কেন্দ্র আসলে জুমলাবাজ। ২০-২২ দিন আগে বুকিং করেও মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না। কালোবাজারির অভিযোগও আসছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।’ এমনই ছবি শহর ও শহরতলির সিংহভাগ জায়গায়। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ