


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সকে ইনসাইড দেখিয়ে লেসলি ক্লডিয়াস সরণি বেয়ে কয়েক পা হাঁটলেই সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিন। ময়দানে ‘মুন্নার ক্যান্টিন’ নামেই পরিচিত। শেষ বিকেলে তুমুল ব্যস্ততা। চিনামাটির প্লেটে ধোঁয়া ওঠা স্টু, ফিশ ফ্রাই উড়ে যায় হু-হু করে। তবে ঠাসা ভিড়েও ক্যান্টিন মালিকের মুখে উদ্বেগ। প্রৌঢ় মুন্না শর্মা প্রায় চার দশক ক্যান্টিন চালাচ্ছেন ময়দানে। কোভিডকালে নানা ওঠাপড়ার সাক্ষী। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ায় আতঙ্ক ফিরছে আবারও। একলাফে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। অথচ চাহিদার তুলনায় জোগান কম। মুন্নার দীর্ঘশ্বাস, ‘জানি না, এভাবে কতদিন চালানো যাবে। খাবারের মানের সঙ্গে আপোস করে লোক ঠকাতে পারব না। কিন্তু সিলিন্ডারের যা দাম এঁটে ওঠা মুশকিল।’
আদালতের নির্দেশে ময়দানে কাঠ বা কয়লা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একমাত্র গ্যাস সিলিন্ডারই ভরসা। দামের ঝাঁঝে চোখে জল আসার জোগাড়। ময়দানের ক্যান্টিনে অশনি সংকেত। সেন্ট্রাল এক্সাইজ ক্যান্টিনের উলটো দিকে তালতলা তাঁবু। ক্যান্টিনে সুধাংশু নায়েকের মুখ শুকনো। ছোট ক্লাবের বিভিন্ন কর্তা বিকেলে আড্ডা জমান। লাল চা, টোস্ট, পিঁয়াজ-লঙ্কা ছড়ানো ঘুঘনি, চপের বেশ কদর। খবর নিয়ে জানা গেল, সিলিন্ডার কিনতে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ। বাধ্য হয়ে সামান্য দাম বাড়ানোর কথা ভেবেছেন সুধাংশুবাবু। বললেন, ‘ট্যাঁকের জোর না থাকলে পাল্লা দেওয়া মুশকিল। ভগবানই ভরসা।’ বাকি ক্যান্টিনেরও নাজেহাল অবস্থা। সিটি ক্লাব, জর্জ টেলিগ্রাফ, রেফারি তাঁবুতেও ক্যান্টিন রয়েছে। সিআরএ টেন্টের ডিমের ডেভিল খাসা। কিন্তু গ্যাস না থাকলে আইটেম জমবে কী করে? সিটি ক্যান্টিনে ময়দান ছাড়াও ধর্মতলার ছুটকো লোকের ভিড়। মালিক অসীম মুখার্জির দাবি, ‘সিলিন্ডার পেতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ। ক্যান্টিন চালু রাখাই সমস্যা। আবার দাম বাড়ালে খরিদ্দারের মুখ ভার। কোথায় যাই বলুন তো?’
ময়দানের দুই প্রধানেও আঁচ পড়ছে ভালোমতোই। সংস্কারের পর মোহন বাগান ক্যান্টিন অনেক ঝকঝকে। চিকেন স্টু ৯০ টাকা। মাটন প্রায় ডাবল। দীর্ঘদিন ক্যান্টিন সামলাচ্ছেন পলাশ মুখার্জি ওরফে কাজু। বললেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বেজায় মুশকিল।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলে ঝকঝকে কাফেটেরিয়া। ময়দানের অন্যতম সেরা। ফুটবল স্কুলের কচিকাঁচারা নিয়মিত টিফিনও পায়। রসনাতৃপ্তিতে হাজির চাইনিজও। কিন্তু সিলিন্ডারের মজুত কম। সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ক্যান্টিন কর্মীরা।