


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত বছর মার্চ মাসে বন্ধ হয়ে যায় হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়। প্রশাসনের তরফে শহরকে ‘ভাগাড়মুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই উত্তর হাওড়ায় কার্যত মাথা তুলেছে নতুন এক আবর্জনার পাহাড়। অভিযোগ, লিলুয়া কারশেড সংলগ্ন রেলের কয়েক বিঘা জমি এখন নিয়মিত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন সেখানে ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিক সহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। দুর্গন্ধে টেকা দায়, তার উপর প্রায়ই সেই স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকা ঢেকে যাচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়।
উত্তর হাওড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈরব দত্ত লেনের পাশেই রয়েছে লিলুয়া রেল কারশেড। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রেনের কামরা পরিষ্কারের পর সেখানকার আবর্জনা সরাসরি ওই জমিতে এনে ফেলা হচ্ছে। এমনকি, হাওড়া স্টেশন থেকে নোংরা এনেও ডাম্প করা হচ্ছে সেখানে। সন্ধ্যা নামলেই আবর্জনার স্তূপে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠছে প্রায় প্রতিদিন। মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে ভৈরব দত্ত লেন, তিনকড়ি বোস লেন, শশীভূষণ সরকার লেন সহ সংলগ্ন এলাকাগুলি। বাসিন্দাদের কথায়, চোখ জ্বালা, গলা জ্বালা, শ্বাসকষ্ট এখন নিত্যসঙ্গী। শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় ইতিমধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এলাকায় তিনটি স্কুল থাকায় পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিশুদের কি বিষাক্ত বাতাসে পড়াশোনা করতে হবে?
বুধবার রাতে আবর্জনায় আগুন লাগানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আগেই ডিআরএম-কে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন।’ অন্যদিকে, রেলের জমির পাশে পুরসভার জমিতেও আবর্জনার স্তূপ জমছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, গোটা এলাকাটি কার্যত ‘দ্বিতীয় বেলগাছিয়া ভাগাড়ে’ পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক পোড়া ঝাঁঝালো গন্ধের মধ্যেই আবর্জনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে গবাদি পশু। হাওড়া পুরসভা জানিয়েছে, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে রেল আবর্জনা ফেলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে রেলকে দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিজেদের জমির বর্জ্যও সরানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুরসভা।
যদিও পূর্ব রেল আংশিক দায় স্বীকার করলেও পুরসভার দিকেই আঙুল তুলেছে। রেলের এক কর্তা বলেন, ‘রেলের ফেলা আবর্জনার উপর পুরসভাও আবর্জনা ফেলছে। তবে কে আগুন ধরাচ্ছে, তা জানা নেই।’ দুই প্রতিষ্ঠানের দড়ি টানাটানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ।