নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত কয়েকদিন জল যন্ত্রণায় ভুগছিল হাওড়া। এবার দোসর হল জঞ্জাল যন্ত্রণা। হাওড়ার ৫০টি ওয়ার্ড থেকে মঙ্গলবার আবর্জনা সংগ্রহের কাজ হয়নি। ফলে কার্যত নরকের মতো পরিস্থিতি হাওড়া শহরজুড়ে। একদিনে হাওড়ায় জমে গিয়েছে ৬৫০ টন আবর্জনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত কয়েকদিন জল যন্ত্রণায় ভুগছিল হাওড়া। এবার দোসর হল জঞ্জাল যন্ত্রণা। হাওড়ার ৫০টি ওয়ার্ড থেকে মঙ্গলবার আবর্জনা সংগ্রহের কাজ হয়নি। ফলে কার্যত নরকের মতো পরিস্থিতি হাওড়া শহরজুড়ে। একদিনে হাওড়ায় জমে গিয়েছে ৬৫০ টন আবর্জনা।
কোথাও ভ্যাট উপচে জঞ্জাল রাস্তার উপর চলে এসেছে। কোথাও আবর্জনা বন্ধ করে দিয়েছে নিকাশি নালা। ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ সিস্টেম। চারদিক দুর্গন্ধে ভরে। পুর নাগরিকরা অতিষ্ট। জমা জলের সঙ্গে আবর্জনা মিশে দুর্বিষহ অবস্থা। ভূমিধসের কারণে বেলগাছিয়া ভাগাড়ে আবর্জনা না ফেলার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার জঞ্জাল সংগ্রহের কাজই হয়নি। এখন গোটা শহর কার্যত আস্তাকুঁড়। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘শিবপুরের আরুপাড়া এলাকায় শহরের আবর্জনা ফেলার জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে এখন থেকে ৫০টি ওয়ার্ডের জঞ্জাল এনে ফেলা হবে।’
গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে মারাত্মক ভূমিধস নামে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। শহরের জঞ্জাল এই সোমবার পর্যন্ত সেখানেই ফেলা হতো। কিন্তু পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশের পর মঙ্গলবার আবর্জনা না ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে এদিন শহরের আড়াইশোটিরও বেশি ভ্যাট থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করাই হয়নি। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাটগুলি আবর্জনায় ভরে ওঠে। ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে রাস্তার মাঝখান পর্যন্ত চলে আসে কাঁড়ি কাঁড়ি আবর্জনা। ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় পঞ্চাননতলা, চ্যাটার্জি হাট বাজার, কদমতলা পাওয়ার হাউজ, রামরাজাতলা ইত্যাদি এলাকায়। চলাচলের রাস্তা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় বেলিলিয়াস লেন ও পঞ্চাননতলা ক্রসিংয়ে। একইসঙ্গে নেতাজি সুভাষ রোড, বৃন্দাবন মল্লিক রোড, নরসিংহ দত্ত রোডের অবস্থাও দুর্বিষহ। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘এক মুহূর্তও স্বস্তিতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। জানি না কতদিন এই ভোগান্তি চলবে।’ দেবর্ষি মিত্র, অরবিন্দ চক্রবর্তী নামে সালকিয়ার দুই বাসিন্দা বলেন, ‘প্রথমে পানীয় জলের সমস্যা, এবার আবর্জনা নিয়ে ভোগান্তি। আর কত সহ্য করবে মানুষ?’
এর পাশাপাশি বেহাল হয়ে পড়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জিটি রোড। এমনিতেই বাস, অটো, টোটোর ভিড় ও ফুটপাত দখলের কারণে দিনভর যানজট লেগে থাকে এই রাজপথ। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ভ্যাট উপচে আসা আবর্জনা। মল্লিক ফটক থেকে কাজিপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ভ্যাট থেকে উপচে পড়েছে আবর্জনা। ফলে যানজট আরও তীব্র আকার নিয়েছে এদিন। রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের পর্যন্ত বক্তব্য, ‘রাস্তায় জঞ্জাল গড়াগড়ি খাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ হেঁটে রাস্তা পার হতে পর্যন্ত পারছেন না।’