


• ‘কুত্তে কামিনে ম্যায় তেরা খুন পি জাউঙ্গা’— বোতাম খোলা শার্টের ফাঁকে সুগঠিত বুকের পাটার উঁকিঝুঁকি, উসকো খুসকো চুল, এক হাতে রক্তমাখা ছুরি আর মুখে রক্ত গরম করা সংলাপ। হিন্দি ছবির দর্শকের চোখে ধর্মেন্দ্র বললে এই ছবিই ভেসে ওঠে। হাতের মাসল ফুলিয়ে যিনি নিমেষে ধরাশায়ী করে দেন ভিলেনদের। রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে কেরিয়ার শুরু করলেও একটা সময়ে তাঁর ম্যাচো ইমেজ মন কেড়ে নিয়েছিল আম জনতার। মাসল ফ্লেক্সিং ধর্মেন্দ্রর নামই হয়ে যায় ‘গরম ধরম’। সাধে কি ধর্মেন্দ্রর হাতে ‘ফিল্ম ফেয়ার লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিতে গিয়ে দিলীপ কুমার বলেছিলেন, ভগবানের দেখা পেলে তাঁকে একটাই প্রশ্ন করতাম, কেন তুমি আমাকে ধর্মেন্দ্রর মতো হ্যান্ডসাম করলে না। শুধু দিলীপ কুমারই নন, জয়া বচ্চন, নার্গিস থেকে শুরু করে জিনাত আমন প্রত্যেকেই ধর্মেন্দ্রর পৌরুষে মুগ্ধ। একটি টিভি শো-তে জয়া বচ্চন তাঁকে ‘গ্রিক গড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সে সময়ে নায়করা জিমে গিয়ে শরীরচর্চার ধার ধারতেন না। ধরম পা-জি জন্মসূত্রেই সুপুরুষ চেহারা পেয়েছিলেন। একবার সলমন খান তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনার ‘থাই’ এত সুগঠিত হল কীভাবে? ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার সাইকেল চালালে সবারই থাই অমন সুগঠিত হতে বাধ্য। পাঞ্জাবের গ্রামের জাঠ সন্তান ধর্মেন্দ্র ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম করেছেন। পরবর্তীতে শহরে গিয়ে চাকরি করার সময়ে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আসা যাওয়া করতেন। গ্রামের টাটকা দুধ, ঘি, বাজরার রুটি ছিল তাঁর নিত্য আহার। চেহারায় তার ছাপ পড়েছিল।
‘শোলা আউর শবনম’, ‘সত্যকাম’, ‘বন্দিনী’, ‘চুপকে চুপকে’র মতো ছবি করা সত্ত্বেও কী করে ধর্মেন্দ্রর হি-ম্যান ইমেজই বড় হয়ে উঠল সে এক রহস্য। কেরিয়ারের মধ্য গগনে থাকাকালীন ‘হকিকৎ’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘শোলে’র মতো অ্যাকশনে ভরপুর ছবি করলেও মনমোহন দেশাইয়ের ‘ধরম বীর’ ছবিই পা-জির ইমেজে পাকাপাকি ভাবে হি-ম্যান স্টিকার সেঁটে দেয়। তারপর থেকেই ছবির নির্মাতারা ধর্মেন্দ্রকে হি-ম্যান হিসেবে পর্দায় হাজির করতে উঠেপড়ে লাগেন। তবে শেষ দিকে সুঅভিনেতা ধর্মেন্দ্র ফের অন্য ধরনের চরিত্রের অফার পেতেন এবং প্রাণঢেলে অভিনয় করতে শুরু করেছিলেন।