নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বয়স ২৬! একের পর এক সম্বন্ধ এলেও, দেখাশোনার পর প্রতিবারই খারিজ করছিল পাত্রপক্ষ। পরিবারের লোকজন তো বটেই আত্মীয়পরিজনদের কাছ থেকে জুটছিল গঞ্জনা। নীরবে সইতে হচ্ছিল ২৬’এর ওই যুবতীকে। অসহনীয় মানসিক চাপ! আর তা সইতে না পেরেই বহুতল আবাসনের ২৫ তলার জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে অবশেষে আত্মঘাতী হলেন ওই যুবতী। সোমবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ এই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল ট্যাংরার ক্যানাল সাউথ রোডের এক অভিজাত আবাসন। মৃতার নাম গরিমা লোধা। পেশায় আইনজীবী গরিমা সম্প্রতি কলকাতার এক ল’ফার্মে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসনের এক বাসিন্দা তথা দেহ উদ্ধারের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী জানাচ্ছেন, এদিন সকালে গাছে জল দিতে গিয়ে অপর এক আবাসিক বহুতলের ওপেন টেরেসে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে পড়ে থাকতে দেখেন গরিমাকে। খবর যায় স্থানীয় ট্যাংরা থানায়। পুলিস এসে তাঁকে উদ্ধার করে নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, মাত্র বছর খানেক আগে ট্যাংরার ওই অভিজাত আবাসনে আসেন গরিমাদের পরিবার। বাড়িতে বাবা, মা এবং বোন রয়েছেন। আর পাঁচটা দিনের মতোই রবিবার রাতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া দাওয়া সেরে নিজের ঘরে শুতে গিয়েছিলেন গরিমা। তারপর সকালেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। তদন্তে নেমে পুলিস গরিমার রুমে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়েও কোনও সুইসাইড নোট পায়নি। পাশাপাশি তাঁর রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। ফলে গরিমার ঘরে দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিস। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার পর তদন্তকারীরা নিশ্চিত, বিয়ে নিয়ে মানসিক চাপ থেকে সম্প্রতি অবসাদে ভুগছিলেন গরিমা। সম্ভবত তার জেরেই ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তবুও এই মৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিস ওই আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের খোঁজ করছে। এই ফুটেজ পেলে এই রহস্যের অনেকটাই কিনারা হবে। সোমবার রাত পর্যন্ত ট্যাংরা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।